ইথিওপিয়ার দক্ষিণের দোয়োগেনা (Doyogena) জেলায় বছরের পর বছর একই জমিতে গম চাষ করা কৃষকেরা এখন জমিতে ডালজাতীয় ফসলের পালা আনছেন। এর পেছনে আছে আন্তর্জাতিক কৃষি গবেষণা জোট সিজিআইএআরের এগ্রোইকোলজি-ট্রানজিশনস কর্মসূচির প্রাইভেট সেক্টর ইনসেনটিভস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস (পিএসআইআই) প্রকল্প, যা প্রশিক্ষণের সঙ্গে বীজের খরচ ভাগাভাগি আর ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ জুড়ে দিয়েছে।
এই চাষিদের সমস্যা অনেক: ক্ষয়ে যাওয়া মাটি, দামি সার, ভালো বীজের অভাব। গুচ্ছ খামারে একটানা গম চাষের কারণে ফসলের পালা চালু করা কঠিন, আর বাজারের দুর্বল যোগাযোগে পুরোনো অভ্যাস বদলানোর তাগিদও কম। শুরুতে অনেকে ডাল লাগাতে রাজি ছিলেন না; বাড়ি থেকে দূরের খেতে কম্পোস্ট নেওয়ার খরচও ছিল বাধা।
প্রকল্পটি কৃষক সংগঠন, জেলা কৃষি দপ্তর, বীজ সরবরাহকারী, প্রক্রিয়াজাতকারী ও গবেষকদের এক মঞ্চে আনে। প্রদর্শনী খেতে কৃষকেরা ফাবা শিম ও গমের পালা, জায়গা বুঝে সার প্রয়োগ, মাটি সংরক্ষণ ও বসতবাড়ির বাগান নিজের চোখে দেখে বেছে নেন। ২০২৩ সালের জুন থেকে পাঁচটি প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা অধিবেশনে ৫৮৫ জন কৃষক ও স্থানীয় কর্মকর্তা অংশ নিয়েছেন; ২০২৪ সালের অক্টোবরের পুষ্টি অধিবেশনে ডাল চাষকে পরিবারের খাবারের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
বীজের খরচ কমাতে প্রকল্প ও কৃষক অর্ধেক-অর্ধেক টাকা দিয়ে ২০ জন কৃষককে ১৫ হেক্টরের জন্য ১,৫০০ কেজি হারিকট শিমের বীজ দেওয়া হয়েছে, আরও ১০ হেক্টরের জন্য ভেচের বীজ। ২০২৫ সালের এপ্রিল ও মে মাসে আদোয়ে ও সেলাম গুচ্ছের ৪০ জন কৃষক ও ১৪ জন বিশেষজ্ঞ বসে আলোচনা করেন, ডাল কীভাবে মাটি ভালো করে, পানি বাঁচায় আর আয়ের পথ বাড়ায়। গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিলে প্রত্যয়িত ফাবা শিমের বীজ সহজলভ্য করার চেষ্টাও চলছে।
অংশ নেওয়া কৃষকেরা বলছেন, মাটি ভালো হয়েছে, ফলন স্থির হয়েছে; তবে সিজিআইএআর মনে করিয়ে দিচ্ছে, এগুলো এখনো মাপা ফল নয়। দোয়োগেনার কৃষক দেগেফে দালেলো (Degefe Dalelo) বলেন, এক টুকরা জমিতে তিন রকম ফসল তুলছেন, প্রতিবেশীরাও এ পদ্ধতি থেকে লাভ পাচ্ছেন।
আশপাশের জেলার কর্মকর্তারা পদ্ধতিটি নিতে আগ্রহী, বীজ ব্যবসায়ী, আটাকল ও সার বিক্রেতারাও ব্যবসার সুযোগ খুঁজছেন, জানিয়েছে সিজিআইএআরের স্কেলিং ফর ইমপ্যাক্ট কর্মসূচি। তবে বড় পরিসরে ছড়াতে নির্ভরযোগ্য বীজ, লাভজনক বাজার আর অংশীদারদের টানা সমন্বয় লাগবে।
সূত্র: সিজিআইএআর (CGIAR)




মন্তব্য
(০)