বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ। এক সপ্তাহও হয়নি, ২৮ অক্টোবর ঘূর্ণিঝড় আর্নাব রাজ্যটিতে আঘাত হেনে সাতজনের প্রাণ নিয়েছে, উপকূল ও আশপাশের অন্তত ১৮টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজ্য সরকার আর্নাবের ক্ষতি প্রাথমিকভাবে ৪,৬০০ কোটি রুপি ধরেছে, জানিয়েছে ডাউন টু আর্থ।
ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ থেকে মুরাসুর সৃষ্টি, এটি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। পূর্বাভাস ছিল, ২ নভেম্বর রাত সাড়ে ১১টা থেকে ৩ নভেম্বর দুপুর ২টার মধ্যে (ভারতীয় সময়) নেল্লোর ও নরসাপুরের মাঝে অন্ধ্রের দক্ষিণ উপকূল অতিক্রম করবে, বাতাসের একটানা গতি ঘণ্টায় ১০০-১১০ কিলোমিটার, দমকা ১২০ কিলোমিটার।
২ নভেম্বর পাঁচ জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির লাল সতর্কতা, সাত জেলায় কমলা ও ছয় জেলায় হলুদ সতর্কতা ছিল; ৩ নভেম্বরের জন্য তিন জেলায় লাল, সাতটিতে কমলা ও ১৬টিতে হলুদ সতর্কতা। রায়ালসীমা, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি, কারাইকাল ও তেলেঙ্গানায়ও কমলা সতর্কতা দেওয়া হয়। অন্ধ্র, উত্তর তামিলনাড়ু, পুদুচেরি ও দক্ষিণ ওডিশা উপকূলে জেলেদের সাগরে না যেতে বলা হয়েছে। ৪ নভেম্বর পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার কথা।
আর্নাবের ক্ষতি এখনো গুনছেন কৃষকেরা। রাজ্য সরকার ১,২৯৩ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত নারকেলবাগানের জন্য হেক্টরপ্রতি ৫৪,০০০ রুপি এবং উপড়ে পড়া বা মাথা ভাঙা প্রতিটি নারকেলগাছের জন্য ১,৫০০ রুপি দেবে; কর্মকর্তাদের হিসাবে প্রায় ১ লাখ ৯৫ হাজার নারকেলগাছ ক্ষতিগ্রস্ত। ১৫,০০০ হেক্টর কলাবাগানের ক্ষতির জন্য হেক্টরপ্রতি ৩৫,০০০ রুপি পাবেন কলাচাষিরা।
মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু নতুন ঝড়ের প্রস্তুতির পাশাপাশি পুনর্বাসনের কাজ দ্রুত করতে বলেছেন, নিহতদের প্রতিটি পরিবারকে ৫ লাখ রুপি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ভারতের প্রস্তাব করা মুরাসু নামের অর্থ তামিল ভাষায় "যুদ্ধের ঢাক"।
ছবি: B.K.Viswanadh / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.5)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)