যুক্তরাজ্যের ডরসেটের দুগ্ধ খামারি নিক টুকের ১৭১টি হলস্টেইন গাভির পালে ২০২৩ সালে সমস্যার একমাত্র লক্ষণ ছিল প্রজননে বড় ধাক্কা। কিছু গাভি স্বাভাবিক ২১ দিনের বদলে ৩০-৩৫ দিনে আবার গরম হচ্ছিল, ফলে তাঁর নির্দিষ্ট সময়ে বাচ্চা দেওয়ানোর পরিকল্পনায় প্রায় চার সপ্তাহের ফাঁক তৈরি হয়।
গাভিগুলো দেখতে সুস্থ ছিল, শরীরের অবস্থা ঠিক ছিল, গরমের লক্ষণ স্পষ্ট দেখাচ্ছিল, দুধও তেমন কমেনি। কিন্তু গর্ভধারণের হার গড় ৩৫ শতাংশ থেকে নেমে ২০-এর ঘরে আসে। প্রথম প্রজননে বকনার গর্ভধারণ প্রায় ৬০ শতাংশ থেকে নেমে ৩৫-৪০ শতাংশে দাঁড়ায়।
পালটিকে বহু বছর ধরে বিভিডি, লেপটোস্পাইরোসিস, রোটাভাইরাস ও দাদের টিকা দেওয়া হচ্ছিল বলে কারণ বোঝা যাচ্ছিল না। পরে পশুচিকিৎসক জেমা লোডার আক্রান্ত গাভির রক্ত পরীক্ষা করেন এবং কিউ জ্বরের উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবডি পান। রোগটি কক্সিয়েলা বার্নেটি নামের ব্যাকটেরিয়ায় হয়।
প্রভাব পরের মৌসুমেও থাকে। বকনারা অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত বাচ্চা দেয়, বাচ্চা দেওয়ার মৌসুম ডিসেম্বরে গড়ায়, কম বাচ্চা হওয়া মাসগুলোতে দুধ উৎপাদন কমে, গর্ভধারণ নিশ্চিত করতে বেশি ওষুধ লাগে, আর সব কারণে গাভি বাদ দেওয়ার হার স্বাভাবিক ২০-২২ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ ছাড়ায়। পরে টুক পুরো পালে টিকা দেন।
দুগ্ধ খামারিদের জন্য শিক্ষা হলো, গাভির আবার গরম হওয়ার ধরনে অব্যাখ্যাত পরিবর্তনই কখনো কখনো সংক্রমণের একমাত্র দৃশ্যমান সূত্র, আর তখন রক্ত পরীক্ষা করানো জরুরি। এই ঘটনায় কোনো মানুষ আক্রান্ত হননি। তবে কিউ জ্বর মানুষেরও হতে পারে; ১৯৯৩ সালে টুকের স্ত্রীর এই রোগ ধরা পড়েছিল, যা তাঁদের ধারণা এঁটুলির কামড় থেকে হয়েছিল।
ছবি: Littledumpy34 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Farmers Weekly





মন্তব্য
(০)