যুক্তরাজ্যের দেড় হাজার খামার পশুচিকিৎসকের সংগঠন ব্রিটিশ ক্যাটল ভেটেরিনারি অ্যাসোসিয়েশন (বিসিভিএ) প্রথমবারের মতো বন্য হরিণকে গবাদিপশুর যক্ষ্মার (বোভাইন টিবি) একটি উদীয়মান উদ্বেগ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ২০২৭ সালের মধ্যে সমন্বিত নজরদারির পাইলট চালু করতে সরকারের পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক দপ্তরকে (ডেফরা) আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
তারা চায় বার্ষিক প্রতিবেদন ও ঝুঁকি মডেলিং, যাতে বোঝা যায় কোথায় হরিণ গরুতে রোগ ছড়াতে পারে, বিশেষ করে যেখানে হরিণ বেশি এবং গরুর সঙ্গে মেশে।
ঝুঁকি অবশ্য ব্যাপক নয় বলে মনে করা হয়। গ্রেট ব্রিটেনে হরিণকে সাধারণত ‘স্পিলওভার’ বাহক ধরা হয়, যারা নিজেরা রোগটি টিকিয়ে রাখে না। প্রায় ২০ লাখ বন্য হরিণ থাকলেও বছরে হাতে গোনা কয়েকবার যক্ষ্মার জীবাণু পাওয়া যায়। তবে দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের মতো যেখানে হরিণ ঘন এবং গরুর সঙ্গে সংস্পর্শ বেশি, সেখানে হরিণ রোগের আধার হতে পারে। প্রাণী ও উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সংস্থা নির্দিষ্ট এলাকায় মৃত হরিণ ও ব্যাজার পরীক্ষা করে।
হালনাগাদ নীতিতে সাতটি অগ্রাধিকার আছে, যার মধ্যে টিকা, রোগনির্ণয়, বন্যপ্রাণী, পশু চলাচল ও মানসিক স্বাস্থ্য। উন্নত যক্ষ্মা পরীক্ষার বেশি ব্যবহার, পশুচিকিৎসকদের ভালো প্রশিক্ষণ এবং ২০২৭ সালের মাঝামাঝি চালু হতে যাওয়া লাইভস্টক ইনফরমেশন সিস্টেমে প্রতিটি পশু ও খামারের তাৎক্ষণিক ঝুঁকি মূল্যায়নের দাবি করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী নিয়ন্ত্রণে ব্যাজারকে টিকা দেওয়াকে প্রধান উপায় হিসেবে সমর্থন করা হয়েছে।
সমারসেটের খামারি ও পশুচিকিৎসক, বিসিভিএর যক্ষ্মা কর্মদলের সভাপতি এড সিমন্স বলেন, গরুর জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত যক্ষ্মার টিকা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কাছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, রোগ নিয়ন্ত্রণে খামারি ও পশুচিকিৎসকদের কষ্ট ও মানসিক যন্ত্রণার কথাও ভাবতে হবে। এ জন্য তৈরি সহায়ক নির্দেশিকা ‘হোয়েন টিবি হিটস’ এ মাসে সংগঠনের সম্মেলনে প্রকাশ হবে।
ছবি: Todd Huffman / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: Farmers Weekly





মন্তব্য
(০)