দেশে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, মোট জনসংখ্যার প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ, আর ২০৫০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে বলে আশঙ্কা চিকিৎসকদের। রোববার ঢাকার কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো ভবনে বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির আয়োজনে ‘ডায়াবেটিসের ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ও দ্রুত পদক্ষেপ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তাঁরা এই তথ্য দেন।
চিকিৎসকেরা বলেন, ডায়াবেটিস একবার হলে সাধারণত পুরোপুরি সারে না, তবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হৃদ্রোগ, স্ট্রোক, কিডনি বিকল হওয়া, রক্তনালির জটিলতা, চোখ ও স্নায়ুর ক্ষতি হতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, স্থূলতা ও অসচেতনতা ঝুঁকি বাড়ায়। বৈঠকে ছিলেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এফ এম সিদ্দিকী, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নাজমুল হোসেনসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা।
ব্যক্তি পর্যায়ে তাঁদের প্রথম চার পরামর্শ: শাকসবজি, ফল ও আঁশযুক্ত খাবার রেখে স্বাস্থ্যকর ও পরিমিত খাওয়া, অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টি এড়ানো; ভাত-রুটির মতো শর্করা একবারে বেশি না খেয়ে পুষ্টিবিদের পরামর্শে পরিমাণ ঠিক করা; সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট হাঁটা, একটানা না পারলে ভাগ করে; আর বয়স ও সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যায়াম ও দৈনন্দিন কাজে সক্রিয় থাকা।
বাকি চার পরামর্শ: পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস বা স্থূলতা থাকলে আগেভাগে পরীক্ষা করে প্রি-ডায়াবেটিস শনাক্ত করা; চিকিৎসকের দেওয়া মাত্রায় নিয়মিত ওষুধ খাওয়া, নিজে থেকে বন্ধ না করা (ইনসুলিন শুরু করলে আর বন্ধ করা যায় না, এ ধারণাও ঠিক নয় বলে জানান তাঁরা); রক্তচাপ, কিডনি, হৃদ্যন্ত্র, চোখ ও পায়ের নিয়মিত পরীক্ষা; আর ডায়াবেটিস সারানোর নামে হারবাল বা অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসার বিজ্ঞাপনে বিভ্রান্ত না হওয়া।
অন্তঃসত্ত্বাদের বিষয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের গাইনোকোলজি ও অবস্টেট্রিকস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সেহেরীন এফ সিদ্দিকা বলেন, গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস মা ও সন্তান দুজনের জন্যই ঝুঁকি। তাই সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনার সময় থেকেই রক্তে শর্করা পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ দরকার, আর গর্ভধারণের পর ঝুঁকিপূর্ণ মায়েদের দ্রুত শনাক্ত করে বিশেষ করে গর্ভাবস্থার শুরুতে এবং ২৪ থেকে ২৮ সপ্তাহের মধ্যে ওজিটিটি পরীক্ষা করতে হবে।
তিনি বলেন, গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে মায়ের উচ্চ রক্তচাপ, প্রসবকালীন জটিলতা ও মাতৃমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে, আর সন্তানের গর্ভপাত, জন্মগত ত্রুটি, অতিরিক্ত ওজন নিয়ে জন্ম ও নবজাতকের মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হয়। আগাম প্রস্তুতি ও নিয়মিত পরীক্ষাই এর প্রতিকার।
ছবি: Erik1980 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)