গত সপ্তাহের তাপপ্রবাহের পর ঢাকায় শীতের আমেজ এলেও বাতাসের মান ভালো হয়নি। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আইকিউএয়ারের সূচকে শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা ছিল তৃতীয়, বায়ুমান সূচক ১৬৪, যা অস্বাস্থ্যকর। প্রথম দুই স্থানে ছিল কুয়েত সিটি ও কলকাতা।
শহরের পর্যবেক্ষণস্থলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূষণ ছিল আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) আশপাশে, সূচক ১৮৬। এরপর বারিধারা পার্ক রোড ১৬৮, বাড্ডার প্রগতি সরণি ও বেচারাম দেউড়ি ১৬৭, বারিধারা লেকসাইড ও ধানমন্ডি ১৬১, গুলশান লেক পার্ক ১৬০, বনানীর ইস্টার্ন হাউজিং ১৫৬ এবং গুলশান ২-এর গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এলাকা ১৫১। সবকটি স্থানের বাতাসই ছিল অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে। সূচকে ১৫১ থেকে ২০০ অস্বাস্থ্যকর, ২০১ থেকে ৩০০ খুবই অস্বাস্থ্যকর, ৩০০-এর বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব এলাকার দূষণে আশপাশেরও ভূমিকা আছে: কড়াইল বস্তির মাটির চুলা ও বর্জ্য পোড়ানোর ধোঁয়া গুলশান-বনানীতে, কামরাঙ্গীরচরের দূষণ ধানমন্ডি পর্যন্ত, আর প্রগতি সরণির খোঁড়াখুঁড়ির ধুলা বারিধারায় ছড়াতে পারে।
স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, লেকের ওপরের বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় পিএম ২.৫ ও পিএম ১০ কণা জলীয় বাষ্পের সঙ্গে ভারী হয়ে ঝুলে থাকে। শীতে তাপমাত্রার বিপরীতমুখিতায় নিচে ঠান্ডা আর ওপরে গরম বাতাস ঢাকনার মতো তৈরি হয়, ফলে ধোঁয়া ও ধুলা ওপরে উঠতে পারে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন বলেন, পাশাপাশি দাঁড়ানো উঁচু ভবন বাতাসের স্বাভাবিক পথ আটকে দেয়, যাকে আরবান ক্যানিয়ন এফেক্ট বলে। তখন দূষিত কণা মাটির কাছাকাছি আটকে থেকে স্থানীয় দূষণ বহুগুণ বাড়ায়।
গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত ব্যক্তিগত গাড়ি ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের ধোঁয়াকে দায়ী করে বলেন, এসব গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে দূষণ কমানো সম্ভব। বনানী সোসাইটির সভাপতি শওকত আলী ভূঁইয়া (দিলন) বলেন, নির্মাণকাজে সুরক্ষাব্যবস্থার কথা আইনে থাকলেও প্রয়োগ নেই।
পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ-১) সিদ্ধার্থ শংকর কুণ্ডু বলেন, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত কার্যক্রম চলছে, এ বিষয়ে একটি কমিটি আছে, আসন্ন সভায় পরবর্তী নীতি ও করণীয় ঠিক করা হবে। প্রতিবেদনটি বাংলা নিউজ ২৪-এর নিউজ ডেস্কের।
ছবি: এই হলো অভীক / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)