সাধারণত নভেম্বর থেকে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমতে শুরু করে, কিন্তু এ বছর মৌসুম পেরিয়েও সংক্রমণ ও মৃত্যু কমছে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বরের প্রথম সাত দিনে আক্রান্ত হয়েছেন ১২ হাজার ৫৮০ জন, মারা গেছেন ৩৯ জন। বছরে এ পর্যন্ত আক্রান্ত ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮০ জন, মৃত্যু ৪৫৮ জনের, জানিয়েছে ঢাকা মেইল। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বরে আক্রান্ত ছিলেন ৭৬ হাজার ২৬ জন, মৃত্যু ৩০৭।
বছরের শুরুতে প্রকোপ কম ছিল: জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে মারা যান, মার্চ-এপ্রিলে কেউ মারা যাননি। মে মাসে একজন ও জুনে ১৩ জনের মৃত্যুর পর জুলাইয়ে ৩৬, আগস্টে ৪৩ এবং সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জন মারা যান। অক্টোবরে মারা যান ১৭৪ জন, এ বছরে এক মাসে সর্বোচ্চ; ওই মাসে আক্রান্ত হন ৫৬ হাজার ৩৮০ জন।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ ঢাকা মেইলকে বলেন, ডেঙ্গু এখন আর নির্দিষ্ট ঋতুর রোগ নয়, সারা বছরের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর মতে মৃত্যু বাড়ার বড় কারণ ভাইরাসের ভিন্ন ভিন্ন সেরোটাইপ: প্রথমবার আক্রান্ত হলে সাধারণত জটিলতা কম হয়, কিন্তু দ্বিতীয়, তৃতীয় বা চতুর্থবার আক্রান্ত হলে তা মারাত্মক হতে পারে। এখন যাঁরা আক্রান্ত হচ্ছেন, তাঁদের অনেকেই আগে একবার আক্রান্ত হয়েছিলেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে আংশিক সম্পর্কিত বৃষ্টি ও আর্দ্রতার ধরনে পরিবর্তনের ফলে মশার প্রজনন মৌসুম দীর্ঘ হচ্ছে, এডিস মশা বেশি সময় সক্রিয় থাকছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ডিসেম্বরের আগে প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমার সম্ভাবনা কম।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, অনেক রোগী ডেঙ্গুর বদলে যাওয়া লক্ষণ সময়মতো বোঝেন না; সামান্য জ্বর, সর্দি, কাশি বা শরীর ব্যথাকে অবহেলা করে চিকিৎসায় দেরি করেন, যা পরে হঠাৎ জটিল হয়ে ওঠে। দেরিতে রোগ নির্ণয়কে তিনি মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ বলেন। এমন লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং জমে থাকা পানি সরিয়ে মশার প্রজননস্থল নষ্ট করার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
ছবি: যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ঢাকা মেইল





মন্তব্য
(০)