সমুদ্রসৈকতের জন্য পরিচিত কক্সবাজারের পাহাড়ি ও চিরহরিৎ বনে এখনো বিচরণ করছে এশিয়ান হাতি, মায়া হরিণ, মুখপোড়া হনুমান, উল্টোলেজি বানর, শজারু, বনবিড়াল ও চিতা বিড়াল; কোথাও বিপন্ন পশ্চিমা উল্লুক, কোথাও দুর্লভ মেঘলা চিতা। বিশ্ব প্রাণী দিবসে বার্তা২৪-এর প্রতিবেদন বলছে, এদের রক্ষায় আবাসস্থলও রক্ষা করতে হবে।
বন অধিদপ্তরের তথ্যে, জেলায় আছে টেকনাফ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য (১১,৬১৪.৫৭ হেক্টর), ফাসিয়াখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য (১,৩০২.৪২ হেক্টর), ইনানী জাতীয় উদ্যান (৭,০৮৫ হেক্টর) এবং ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বাইশারী ব্যাংডেপা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। চকরিয়ার অংশ নিয়ে বিস্তৃত চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ৭,৭৬৪ হেক্টরের, যেখানে হাতি অন্যতম প্রধান প্রাণী।
২০২২ থেকে ২০২৩ সালের এক গবেষণায় উখিয়ার ইনানী জাতীয় উদ্যানে ২৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী পাওয়া গেছে। এর মধ্যে এশিয়ান হাতি, পশ্চিমা উল্লুক ও মেঘলা চিতা জাতীয় রেড লিস্টে অতি বিপন্ন; উত্তরের মায়া হরিণ, উল্টোলেজি বানর, মুখপোড়া হনুমান ও লজ্জাবতী বানরও বিপন্ন প্রজাতি। আরেক গবেষণায় ইনানীতে পশ্চিমা উল্লুকের সাতটি দলে মোট ১৮টি উল্লুক মিলেছিল। বন অধিদপ্তরের পুরোনো তথ্যে ইনানী বনে ১৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৬৫ প্রজাতির পাখি, ৬ প্রজাতির উভচর ও ১৫ প্রজাতির সরীসৃপের কথা আছে; টেকনাফের কুদুম গুহায় দুই প্রজাতির বাদুড়, চার প্রজাতির শামুক, চার প্রজাতির মাছ ও তিন প্রজাতির মাকড়সা।
ফাসিয়াখালী অভয়ারণ্যকে হাতির গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বনে খাবার ও নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র কমলে হাতি লোকালয়ে নামে, তৈরি হয় মানুষ-হাতি সংঘাত; তাই হাতির চলাচলের পথ অক্ষুণ্ন রাখাও জরুরি।
পর্যটন, বসতি, সড়ক ও অবকাঠামোর চাপে বনাঞ্চল সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা আছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কক্সবাজার শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, বন বাঁচলেই প্রাণী বাঁচবে; বনে যেভাবে বসতি ও রাস্তাসহ স্থাপনা হচ্ছে, তা প্রাণীদের জন্য হুমকি।
প্রতিবেদনটি করেছেন বার্তা২৪-এর কক্সবাজার স্টাফ করেসপন্ডেন্ট আবদু রশিদ মানিক।
ছবি: Programme HURO / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: বার্তা২৪




মন্তব্য
(০)