তুরস্কের আন্তালিয়ায় (Antalya) ৯ নভেম্বর শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১, চলবে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত। আয়োজকদের প্রকাশিত অগ্রাধিকারের তালিকায় পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, জলবায়ু অর্থায়ন, সহনশীল নগর, মহাসাগর, মিথেন ও বর্জ্যের পাশে আছে খাদ্য নিরাপত্তাও। ১১ ও ১২ নভেম্বর আন্তালিয়া এক্সপো সেন্টারে হবে বিশ্বনেতাদের শীর্ষ বৈঠক।
খাদ্য নিরাপত্তার ঘোষিত লক্ষ্য দুটি। টেকসই কৃষি, পানির প্রাপ্যতা ও গ্রামীণ জীবিকাকে এক সুতোয় বাঁধা পথনকশা, আর ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বের সব তরুণ কৃষকের কাছে জলবায়ু সহনশীল চাষের প্রশিক্ষণ পৌঁছানো। আয়োজকেরা একে ‘ট্রিপল কপ’ বলছেন। চক্রাকার অর্থনীতি, টেকসই কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও জীববৈচিত্র্যকে একই নীতিধারায় আনার চেষ্টা থাকবে। সমান্তরালে চলবে জীববৈচিত্র্য ও মরুকরণ সনদের কপ১৭ বৈঠক।
আনুষ্ঠানিক আলোচনায় খাদ্যব্যবস্থাকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি করে আসছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)। সংস্থাটির হিসাবে বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রায় ৩০ শতাংশ আসে কৃষি থেকে। মাটির উন্নত ব্যবস্থাপনা ও খাদ্য অপচয় কমানো সমাধানের অংশও হতে পারে। কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থায় বছরে প্রায় ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন ঘাটতির কথা বলছে এফএও।
আলোচনার ফাঁকে ১০ নভেম্বর আন্তালিয়ায় বসবে কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থার সহনশীলতা নিয়ে একটি ফোরাম। অংশ নেওয়া নিশ্চিত করেছেন বায়ারের (Bayer) বৈশ্বিক টেকসই অংশীদারত্ব ও কৌশল বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট অমিত ত্রিখা (Amit Trikha), আন্তর্জাতিক সার সমিতির প্রধান নির্বাহী আলঝবেতা ক্লেইন (Alzbeta Klein) এবং খাদ্য ও ভোগ্যপণ্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, মাটির স্বাস্থ্য, সহনশীল চাষের উদ্ভাবন এবং আবহাওয়া বদলে কৃষককে সাহায্য করার ডিজিটাল প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।
সম্মেলনটিকে ‘বাস্তবায়নের কপ’ বলছেন আয়োজকেরা। নতুন প্রতিশ্রুতির চেয়ে ঘোষিত জাতীয় পরিকল্পনাকে কাজে নামানোই এবারের লক্ষ্য। তবে প্রায় ৫০টি পক্ষ এখনো হালনাগাদ জাতীয় জলবায়ু পরিকল্পনা জমা দেয়নি। সভাপতিত্বে আছেন তুরস্কের মুরাত কুরুম (Murat Kurum), আলোচনার সভাপতি অস্ট্রেলিয়ার ক্রিস বোয়েন (Chris Bowen)। আয়োজক হওয়া নিয়ে দুই দেশের বিরোধের পর এই ব্যবস্থা।
খাদ্যের লক্ষ্য কতদূর এগোবে, তা অর্থের ওপরও নির্ভর করছে। জাতীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভিযোজন অর্থায়নের ঘাটতি ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৬ থেকে ৭ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার। এই হিসাব কৃষির একার নয়, সব খাতের।
ছবি: Pamfilyalı / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0), আকাশ থেকে আন্তালিয়া এক্সপো সেন্টার
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার





মন্তব্য
(০)