তাপ আর খরা একসঙ্গে এলে ভুট্টার চারা যেকোনো একটির চেয়ে বেশি এবং দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির শিকার হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লুইসের ডোনাল্ড ড্যানফোর্থ প্ল্যান্ট সায়েন্স সেন্টার ও ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি এ মাসে দ্য প্ল্যান্ট জার্নালে প্রকাশিত হয়, আর ১৪ অক্টোবর ড্যানফোর্থ সেন্টার তা ঘোষণা করে।
গবেষকেরা ৪৭টি জিনগতভাবে বৈচিত্র্যময় ও সবার জন্য উন্মুক্ত ভুট্টার জাত চারা গজানোর পর ১৩ দিন চার অবস্থায় বড় করেন: স্বাভাবিক, শুধু খরা, শুধু তাপ এবং তাপ ও খরা একসঙ্গে। মার্কিন মিডওয়েস্টে গ্রীষ্মের শুরুতে ভুট্টা যে চাপের মুখে পড়ে, তার অনুকরণেই এই নকশা। শেষে একবার মাপার বদলে কেন্দ্রের বেলওয়েদার ফেনোটাইপিং ফ্যাসিলিটিতে প্রতিটি চারার রোজ ছবি তোলা হয়, আর প্ল্যান্টসিভি (PlantCV) নামের বিনামূল্যের সফটওয়্যার সেই ছবি দেখে সময়ের সঙ্গে চারার আকার, উচ্চতা, পানি ব্যবহার ও পাতার রঙের বদল মাপে।
রোজকার ছবিতে দেখা যায়, শুধু খরায় কোনো জাত কেমন করে, তা দিয়ে তাপ যোগ হলে সেটি কেমন করবে তা নির্ভরযোগ্যভাবে বলা যায় না। আলাদাভাবে দুটি চাপই চারার আকার কমিয়েছে; খরা বৃদ্ধিও ধীর করেছে, পাতা কম ও কম সবুজ হয়েছে। বেশির ভাগ জাতে দুই চাপ একসঙ্গে চারাকে যেকোনো একটির চেয়ে বেশি ছোট করেছে। চাপের কয়েক দিনের মাথায় চারা দেখতে কেমন, তা দিয়ে শেষ ক্ষতি আন্দাজ করা যায়নি; তাই শুধু শুরুর চোখে-দেখা বাছাই প্রজননবিদদের ভুল পথে নিতে পারে।
পরের এক পরীক্ষায় দুটি জাতকে প্রায় দুই সপ্তাহ চাপের পর স্বাভাবিক পানি ও তাপমাত্রায় ফিরিয়ে বপনের ৬১ দিন পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করা হয়। শুরুতে তাপ ও খরা দুটোই পাওয়া চারা কয়েক সপ্তাহ পরেও চাপহীন চারার চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট থেকেছে। শুরুর খরা ফুল আসা পিছিয়েছে, শুরুর তাপ এগিয়ে এনেছে, আর দুটো একসঙ্গে জাতভেদে ভিন্ন প্রভাব ফেলেছে।
ড্যানফোর্থ সেন্টারের উদ্ভাবন-গবেষণা পরিচালক ড. মালিয়া গেহান (Malia Gehan) বলেন, ‘খরায় ভালো করা কোনো ভুট্টা তাপ যোগ হলে একেবারে অন্য রকম আচরণ করতে পারে।’ তিনি মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. কোরি হার্শের (Cory Hirsch) সঙ্গে গবেষণাটির নেতৃত্ব দেন। অর্থায়ন করেছে ইউএসডিএর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার, ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
গবেষণাটি কোনো নতুন জিন, বৈশিষ্ট্য বা হাইব্রিড আনেনি। এর অবদান পদ্ধতিগত: একসঙ্গে অনেক জাতকে একক নয়, যৌথ চাপে দ্রুত যাচাইয়ের উপায়। গবেষকদের মতে, এতে প্রজননবিদ ও বীজ কোম্পানিগুলো আলাদাভাবে পরীক্ষিত তাপ ও খরা-সহনশীলতার ওপর ভরসা না করে কৃষকের সামনে ক্রমেই বাড়তে থাকা গরম ও শুষ্ক পরিস্থিতির জন্য মাতৃ-পিতৃ জাত বাছতে পারবে।
ছবি: Billy Hathorn / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার




মন্তব্য
(০)