কলম্বিয়ার কোকো বা গরুর মাংস বন কেটে উৎপাদন হয়নি, তা প্রমাণ করা সহজ ছিল না, কারণ দেশজুড়ে একক কোনো যাচাইব্যবস্থা ছিল না। সিজিআইএআর (CGIAR) জানাচ্ছে, এবার নতুন জাতীয় প্রটোকলের অধীনে নয়টি বিভাগে ৬০ হাজার হেক্টর জমি মানচিত্রে আনা হয়েছে এবং ছয়টি অংশীদার কোম্পানি তা নিজেদের ট্রেসেবিলিটি ব্যবস্থায় যুক্ত করেছে।
কোকো, কফি, গরুর মাংস, দুধ ও পাম তেলে শূন্য বন উজাড়ের স্বেচ্ছা চুক্তি থাকলেও অগ্রগতি মাপার অভিন্ন কাঠামো ছিল না। অ্যালায়েন্স অব বায়োভার্সিটি ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিআইএটির নেতৃত্বে সিজিআইএআরের লো-এমিশন ফুড সিস্টেমস উদ্যোগ সরকারি সংস্থা, উৎপাদক সমিতি ও কোম্পানিকে এক টেবিলে এনে এমআরভি প্রটোকল ২.০ গড়ে তোলে।
এর ভিত্তি ডিজিটাল। গানাবোস্কেস (GANABOSQUES) প্ল্যাটফর্মের পরীক্ষামূলক সংস্করণে বন পর্যবেক্ষণ, সংরক্ষিত এলাকার সীমানা, কৃষি সীমান্ত ও গবাদিপশু চলাচলের তথ্য একসঙ্গে দেখে খামারভিত্তিক ঝুঁকি যাচাই করা যায়। জিওফার্মার ও ওপেন ডেটা কিট ড্যাশবোর্ডে দেখা গেছে মানচিত্রায়ন ও প্রশিক্ষণের অগ্রগতি।
কোকো, মাংস ও দুধের সরবরাহ শৃঙ্খলের ৫২ জন কারিগরি কর্মী ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ ও খামার মানচিত্রায়নের প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। কম সাক্ষরতা ও দুর্বল ইন্টারনেটের কথা ভেবে উপকরণ সাজানো হয়েছে। সব মিলিয়ে ১ হাজার অংশীজনের কাছে পৌঁছেছে কার্যক্রম, যার অর্ধেক নারী ও গ্রামীণ তরুণ।
আরও কিছু কোকো কোম্পানি স্বেচ্ছায় উৎস যাচাইয়ে এটি ব্যবহার শুরু করেছে। ফিনাগ্রোর (FINAGRO) সঙ্গে আলোচনায় দেখা হচ্ছে, এমআরভির ফল সবুজ ঋণের যোগ্যতা ঠিক করতে কাজে লাগানো যায় কি না।
প্রকল্পের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলম্বিয়ার হালনাগাদ জাতীয় জলবায়ু অঙ্গীকার এনডিসি ৩.০-তে প্রটোকলটি বাস্তবায়নের উপায় হিসেবে স্থান পেয়েছে। তবে আন্তঃমন্ত্রণালয় প্রস্তাবের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক গ্রহণের কাজ চলছে, সবুজ অর্থায়নের যোগও এখনো তৈরি হচ্ছে। সিজিআইএআরের ভাষ্য, ক্ষুদ্র চাষিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কাজের চাপ ও ডিজিটাল সুযোগের দিকে নজর রাখা জরুরি।
বিবরণটি সংকলন করেছে সিজিআইএআরের স্কেলিং ফর ইমপ্যাক্ট প্রোগ্রাম।
ছবি: pipeafcr / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: CGIAR




মন্তব্য
(০)