মালির সিনজানায় (Cinzana) একটি জলবায়ু-সহনশীল গ্রাম প্রকল্পে কৃষকের ফলন বেড়েছিল, কৃষক দলও শক্ত হয়েছিল। পরে আলাদা এক প্রকল্পের রাস্তা কাছের একটি বনের পথ খুলে দেয়। বাইরের লোকজন অবৈধভাবে গাছ কাটতে শুরু করে, কারণ বন নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বা নিয়ম স্থানীয়দের হাতে ছিল না। গ্রামের ভেতরে ও গ্রামে গ্রামে বাড়ে উত্তেজনা।
এ ধরনের ফাঁক আগেই ধরতে সিজিআইএআর ক্লাইমেট সিকিউরিটির গবেষকেরা তৈরি করেছেন ক্লাইমেট সিকিউরিটি সেনসিটিভিটি টুল (CSST)। এটি ইনফর্ম রিস্ক ইনডেক্সের তথ্য দিয়ে কোনো এলাকার সংঘাত ও নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকি বের করে, তারপর প্রকল্পকে ছয়টি দিক থেকে মেলায়: অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রতিষ্ঠান, আস্থা ও সহযোগিতা, সম্পদের স্থায়িত্ব, জ্ঞান এবং সক্ষমতা ও সহনশীলতা।
২০২৩ সালে ঘানার জিরাপা (Jirapa) ও মালির সিনজানায় এই পদ্ধতি পরীক্ষা করা হয়। গবেষণায় ছিল নথি পর্যালোচনা, প্রতিটি দেশে ২০ জন স্থানীয় বিশেষজ্ঞকে নিয়ে কর্মশালা এবং গ্রামের নারী, পুরুষ ও তরুণদের সঙ্গে দলগত আলোচনা।
জিরাপায় ছয়টির মধ্যে পাঁচটি দিক পরিস্থিতির সঙ্গে মিলেছে; দুর্বলতা ধরা পড়েছে ভূমি অধিকারের নিরাপত্তা ও সুবিধার ন্যায্য বণ্টনে। সেখানে অংশগ্রহণমূলক মানচিত্র তৈরি ও ভূমি অধিকার স্পষ্ট করার সুপারিশ এসেছে। সিনজানায় ঘাটতি পাওয়া গেছে প্রতিষ্ঠান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে, যার মধ্যে আছে কৃষি সম্প্রসারণ সেবাও।
গবেষণায় পদ্ধতিটির সীমাও ধরা পড়েছে। ঘানার ক্ষেত্রে সূচকে শুধু জাতীয় পর্যায়ের সংখ্যা ছিল, ফলে জিরাপার ছবি এসেছে দেশের গড় থেকে। অথচ স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের চোখে এলাকাটি অনেক বেশি সংঘাতপ্রবণ। তাই লেখকেরা পদ্ধতিটিকে স্থানীয় বিশেষজ্ঞ ও জনগোষ্ঠীর মতামতের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহারের কথা বলছেন।
গবেষকদের মতে, প্রকল্পের নকশা তৈরির সময়ই এটি সবচেয়ে কাজে আসে। পূর্ণ গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ফ্রন্টিয়ার্স ইন সাসটেইনেবল ফুড সিস্টেমস সাময়িকীতে।
প্রতিবেদন: সিজিআইএআর ক্লাইমেট সিকিউরিটি।
ছবি: Intsormil / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: CGIAR





মন্তব্য
(০)