এল নিনোর সবচেয়ে বড় আঘাত ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে আসতে পারে বলে সতর্ক করেছে ফিলিপাইনের কৃষি বিভাগ। ধান উৎপাদনে ক্ষতির পূর্বাভাস ৭ লাখ টন থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টন করা হয়েছে।
ম্যানিলায় এক অনুষ্ঠানে বিভাগের মুখপাত্র ও সহকারী সচিব আরনেল ভি. দে মেসা (Arnel V. de Mesa) বলেন, এল নিনোর আসল প্রভাব পড়বে আগামী বছর। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শুকনো মৌসুম ব্যাহত হলে উৎপাদন কমবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম বাড়তে পারে। এর তীব্রতা, স্থায়িত্ব ও সেচের পানির ওপর ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করবে।
তাঁর মতে, বৃষ্টিনির্ভর খামারই সবচেয়ে বেশি ভুগবে, কারণ বৃষ্টি কমলে আবাদি জমি কমে যায়। ক্ষতি ধান ছাড়িয়ে ভুট্টা, সবজি, পশুসম্পদ ও মৎস্য খাতেও ছড়াতে পারে।
২১ অক্টোবর পর্যন্ত এল নিনোতে ৮৫৭ কোটি পেসোর কৃষি ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২ লাখ ৮৮ হাজার ৫৮ জন কৃষক, ২ লাখ ৯১ হাজার ১৫৪ হেক্টর জমি। উৎপাদন কমেছে ২ লাখ ২০ হাজার ৩০৭ টন, যার মধ্যে ধান ৭১ হাজার ৪০৮ টন ও ভুট্টা ১ লাখ ৩২ হাজার ২৯০ টন। শস্য বিমাসহ প্রাথমিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ১৩৪ কোটি পেসো।
তবু দে মেসা পরিস্থিতিকে অনুকূল বলছেন; তাঁর দাবি, মজুত দিয়ে এল নিনো পার করা যাবে। অক্টোবর পর্যন্ত চাল আমদানি হয়েছে ৪৮ লাখ টন, ডিসেম্বরের মধ্যে তা ৫৫ থেকে ৫৮ লাখ টনে দাঁড়াতে পারে।
বিভাগ ঝুঁকছে কম দামের ২৫ শতাংশ ভাঙা চালের দিকে, যার দাম টনপ্রতি ৩৭০ থেকে ৩৮০ ডলার; ৫ শতাংশ ভাঙা চালের দাম প্রায় ৫০০ ডলার। দে মেসার আশঙ্কা, আগামী বছর এই আঞ্চলিক বাজারই চাপে পড়বে।
ছবি: IRRI Images / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: Global Agriculture


মন্তব্য
(০)