ভারতের মধ্যপ্রদেশের ডিন্ডোরি (Dindori) জেলায় বর্ষাকালে প্রায় ২০ লাখ শাল বোরার পোকা ধরেছে বন বিভাগ, খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ লাখ রুপি। তবু আক্রমণ থামেনি, জানিয়েছে ডাউন টু আর্থ। কাটার জন্য চিহ্নিত প্রায় দেড় লাখ গাছের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এরই মধ্যে কাটা হয়েছে।
গত বছর ডিন্ডোরি বন বিভাগের ৩০ হাজার হেক্টরের বেশি শাল বন এই পোকায় আক্রান্ত হয়। ফাঁদ হিসেবে ব্যবহারের জন্য ৬ হাজার ৭৬৯টি সুস্থ গাছ কাটা হয়, পোকা ধরা চলে ১ জুন থেকে ৩১ জুলাই। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাজ বন্ধ হয়েছে খুব তাড়াতাড়ি। উপবিভাগীয় কর্মকর্তা সুরেন্দ্র জাটভ (Surendra Jatav) মেনে নিয়েছেন, আক্রমণ এখনো তীব্র।
বড় বিতর্ক গাছ কাটা নিয়ে। বিভাগের কর্মপরিকল্পনা বলছে, জুনের আগেই কাটা শেষ করতে হবে, কারণ বর্ষায় কাটলে পোকা আকৃষ্ট হয় ও বংশ বাড়ায়। কিন্তু কেন্দ্রের অনুমোদন আসে ১ সেপ্টেম্বর, ডিন্ডোরিতে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৮৪টি ও আনুপ্পুরে ৯ হাজার ৫৩৫টি গাছের জন্য; সে মাসেই কাটা শুরু হয়। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে কাটা গাছ ডিপোতে না নিয়ে বনেই ফেলে রাখা হয়েছে।
জবলপুরের রাজ্য বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের কীটতত্ত্ববিদ উদয় হোমকার (Uday Homkar) বাকি গাছ নতুন করে যাচাইয়ের পরামর্শ দিয়েছেন, কারণ পোকা বেরিয়ে গেছে, কিছু গাছ সেরেও উঠে থাকতে পারে। সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক রাম প্রসাদ (Ram Prasad) ২৩ অক্টোবর ভোপালে এক কর্মশালায় কাটা বন্ধের আহ্বান জানান। তাঁর কথা, যে গাছ এখনো সবুজ, তা কার্বন শোষণ করছে এবং বাস্তুতন্ত্রের অংশ।
প্রধান বন সংরক্ষক বি এস আন্নাগিরি (B S Annagiri) বলেন, এমন প্রাদুর্ভাব তিন-চার বছর চলতে পারে, এবারেরটি সম্ভবত আগামী বছরও থাকবে। সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যালোচনা হবে, দরকার হলে আগামী বর্ষার আগে আক্রান্ত গাছ সরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছবি: Anand.osuri / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)