প্যারিস চুক্তির দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস সীমা ছাড়িয়ে গেলে সাগর, হিমবাহ ও চিরহিমায়িত মাটির অপরিবর্তনীয় ক্ষতির ঝুঁকি দ্রুত বাড়বে, আর এর অর্থনৈতিক ও সামাজিক মূল্য আগের ধারণার চেয়ে বেশি। ৬ অক্টোবর প্রকাশিত '১০ নিউ ইনসাইটস ইন ক্লাইমেট সায়েন্স' প্রতিবেদনের বরাতে এ খবর দিয়েছে ইউরোনিউজ। প্রায় ৩০টি দেশের ৭০ জনের বেশি বিজ্ঞানীর এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে ফিউচার আর্থ, দ্য আর্থ লিগ ও ওয়ার্ল্ড ক্লাইমেট রিসার্চ প্রোগ্রাম।
পটসডাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চের পরিচালক ইয়োহান রকস্ট্রমের ভাষায়, দেড় ডিগ্রি এমন এক সীমা, যা পেরোলে ঝুঁকি আমাদেরই। সাগর রেকর্ড পরিমাণ তাপ শুষে নিচ্ছে: আগস্টে বিশ্বে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ২১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা রেকর্ডে সর্বোচ্চ। তাপ সাগরের গভীরে পৌঁছাতে কয়েক দশক লাগে বলে আজকের নিঃসরণ ভবিষ্যতের উষ্ণতা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিশ্চিত করে ফেলছে; কিছুটা উচ্চতা বৃদ্ধি এরই মধ্যে অপরিবর্তনীয়, তবে কতটা হবে তা নির্ভর করছে নিঃসরণ কত দ্রুত কমে তার ওপর।
কৃষির জন্য দুটি সিদ্ধান্ত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। মহাদেশজুড়ে মাটির ওপর ও নিচে মিঠাপানির মজুত কমার প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে, যা পানি নিরাপত্তা, প্রতিবেশ ও খাদ্য উৎপাদনকে হুমকিতে ফেলছে; লেখকেরা পুরো পানিচক্র ধরে সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং জলাভূমি, নদী ও বন পুনরুদ্ধারের মতো প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানের পরামর্শ দিয়েছেন। আর খাদ্যব্যবস্থা এখনো জলবায়ু পরিবর্তনের বড় চালক: বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসে খাদ্য ও কৃষি থেকে; ইউরোপীয় ইউনিয়নে খাদ্য উৎপাদনের নিঃসরণের ৮১ থেকে ৮৬ শতাংশ প্রাণিজ খাদ্যের, অথচ তা জোগায় মাত্র ৩২ শতাংশ ক্যালরি ও ৬৪ শতাংশ আমিষ। উদ্ভিজ্জ খাবারনির্ভর খাদ্যাভ্যাসে সরলে জলবায়ু, জীববৈচিত্র্য ও স্বাস্থ্যের লাভ হবে, তবে তা করতে হবে সতর্কভাবে ও ন্যায্যভাবে।
প্রতিবেদন আরও বলছে, হালনাগাদ মডেলে কার্বনের সামাজিক মূল্য চার গুণ পর্যন্ত বেশি দাঁড়ায়; বিজ্ঞান এখন নির্দিষ্ট নিঃসরণকারীর সঙ্গে ক্ষতির যোগসূত্র দেখাতে পারে, যা ক্ষতিপূরণের দাবি জোরালো করবে; আর কার্বন সীমান্ত করের মতো উদ্যোগ নিয়ে দেশগুলোর 'ক্লাইমেট ক্লাব' শিল্পের নিঃসরণ কমাতে পারে, তবে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা ছাড়া তা উন্নয়নশীল দেশের ওপর বোঝা হয়ে উঠতে পারে।
লেখকদের সতর্কবার্তা, জলবায়ু পদক্ষেপে বাধা এখন অস্বীকারের চেয়ে বেশি আসছে গ্রিনওয়াশিং ও ভুয়া তথ্যের মাধ্যমে, আর যুদ্ধ ও জ্বালানি নিরাপত্তার শঙ্কা জ্বালানি রূপান্তরকে আরও অসম করছে, দামের ধাক্কা লাগছে সবচেয়ে দুর্বলদের গায়ে। পদক্ষেপের সময় কমে আসছে, তবে এখনো শেষ হয়নি।
ছবি: Blase Reardon, USGS / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: ইউরোনিউজ





মন্তব্য
(০)