পুনরুৎপাদনশীল কৃষিপদ্ধতি মাটিতে কার্বন জমাচ্ছে কি না, তা সরাসরি মাপতে বহু বছর লাগে। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা দেখিয়েছেন, মাটির অণুজীব নিয়ে কয়েকটি জৈবিক পরীক্ষা সেই উত্তর অনেক আগেই দিতে পারে। নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটির বরাতে ৬ অক্টোবর এ খবর দিয়েছে এগ্রোপেজেস।
এনসি স্টেট, নর্থ ক্যারোলাইনা এঅ্যান্ডটি স্টেট ইউনিভার্সিটি ও এমোরি ইউনিভার্সিটির দলটি এনসি এঅ্যান্ডটির খামারে লবলি পাইন ও পিক্যান বাদামগাছের কৃষি-বনায়নে বিভিন্ন মাত্রার চাষ আর কয়েক রকম আচ্ছাদন ফসলের মিশ্রণ যুক্ত করে। এরপর মাপা হয় এনজাইমের সক্রিয়তা, জীবিত অণুজীবের ভর (বায়োমাস) ও মৃত অণুজীবের অবশেষ (নেক্রোমাস); তিনটিই মাটির কার্বনের নির্দেশক।
গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক, এনসি স্টেটের সহকারী অধ্যাপক দেবযানী সিহি বলেন, অণুজীব মাটির কার্বন খাওয়ার সময় এনজাইম ছেড়ে তা ভাঙে, কিছুটা খায়, কিছুটা শ্বাসের সঙ্গে বাতাসে ফিরিয়ে দেয়, আর মারা গেলে রেখে যায় নেক্রোমাস। এই মৃত অণুজীবের কার্বন সহজে মাটির খনিজের সঙ্গে শক্ত বন্ধন তৈরি করে বলে দীর্ঘমেয়াদে কার্বনের ভান্ডার গড়ে।
পিক্যানের জমিতে মোট বায়োমাস পাইনের চেয়ে বেশি ছিল, কারণ চওড়া পিক্যান পাতা পাইনের কাঁটার চেয়ে সহজে পচে। এনজাইমের সক্রিয়তা গাছের প্রজাতি ও আচ্ছাদন ফসল দুইয়েই সাড়া দিয়েছে। ন্যূনতম চাষ আর একেবারে চাষ না করার মধ্যে কার্বনে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য মেলেনি, যা সিহির মতে ন্যূনতম চাষের পক্ষে যুক্তি, কারণ এতে আগাছার চাপও কমে, কার্বন জমাও বাধাগ্রস্ত হয় না।
'সয়েল কার্বন সাইকেল প্রক্সিজ ইন আ রিজেনারেটিভ ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম' নামের গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অব ন্যাচারাল রিসোর্সেস অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল ইকোসিস্টেমসে। অর্থায়নকারীদের মধ্যে আছে সুমিতোমো কেমিক্যালের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ভ্যালেন্ট বায়োসায়েন্সেস এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের অর্গানিক ট্রানজিশনস প্রোগ্রামসহ কয়েকটি কর্মসূচি।
ছবি: Dicklyon / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: AgroPages





মন্তব্য
(০)