দক্ষিণ মহাসাগরের খাদ্যশৃঙ্খলের একেবারে গোড়ায় থাকা ছোট চিংড়িসদৃশ প্রাণী অ্যান্টার্কটিক ক্রিল আহরণ দ্রুত বাড়াচ্ছে চীন, আর সংরক্ষণবিদদের আশঙ্কা, উষ্ণায়নে চাপে থাকা ওই প্রতিবেশব্যবস্থার আরও ক্ষতি হতে পারে। ৫ অক্টোবর এ খবর দিয়েছে ডায়ালগ আর্থ। বছরের ৬,২০,০০০ টনের আহরণসীমা আগস্টেই পূর্ণ হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মাস কয়েক আগে মৎস্যক্ষেত্রটি বন্ধ হয়ে যায়; আগামী বছরের নিয়ম ঠিক করতে ২০ থেকে ৩১ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ার হোবার্টে বসছে অ্যান্টার্কটিক সামুদ্রিক জীবসম্পদ সংরক্ষণ কমিশন (সিসিএএমএলআর)।
নরওয়ের পরে চীন দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রিল আহরণকারী দেশ; কমিশনে নিবন্ধিত ১৫টি জাহাজের ছয়টিই চীনের। গত বছর চীনা জাহাজগুলো আহরণ প্রায় দ্বিগুণ করে রেকর্ড ২,৩১,০৮৩ টনে নিয়েছে। সবচেয়ে নতুন জাহাজ ফু ইউয়ান ইউ ৯১৯৯ সাকশন পাম্পে দিনে ১,০০০ টন ক্রিল তুলতে পারে; ফুজিয়ান প্রদেশের নথি অনুযায়ী এর ৬০ কোটি ১০ লাখ ইউয়ান (৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার) নির্মাণ খরচের ২৫ শতাংশ ভর্তুকি দিয়েছে রাষ্ট্র, আর দেশে ক্রিল নামালে স্থানীয় সরকারগুলো টনপ্রতি অর্থ দেয়।
স্থলে ফুজিয়ানের একটি ক্রিল শিল্পপার্কের দ্বিতীয় ধাপ আগামী বছর শেষ হলে বছরে ১,৫০,০০০ টন প্রক্রিয়াজাত করা যাবে, লিয়াওনিংয়ে আরেকটি তৈরি হচ্ছে। আহরণের বেশির ভাগ গুঁড়া করে বানানো হয় ক্রিল মিল, যা মাছচাষ ও শূকর খামারের খাদ্যে, বিশেষত ক্ষুধা বাড়ানোর উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এক চীনা গবেষকের হিসাবে বছরে প্রায় ২৫,০০০ টন ক্রিল মিল হয়, যেখানে দেশটির মাছের গুঁড়ার চাহিদা প্রায় ২০ লাখ টন। ২০২৫ সালে চীন প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ টন চাষের মাছ উৎপাদন করেছে, আর মাছের খাদ্যের গুঁড়া ও তেলের অন্তত অর্ধেক আমদানি করে। মে মাসে এল নিনোর কারণে পেরু অ্যাঙ্কোভি আহরণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিলে মাছের গুঁড়ার দাম ১৯৯২ সালে রেকর্ড রাখা শুরুর পর সর্বোচ্চে ওঠে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ক্রিলের মজুত চাপে আছে। চীনা বিজ্ঞান একাডেমির সমুদ্রবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী ইয়াং গুয়াং এক গবেষণার উল্লেখ করে বলেন, মোট মজুতের প্রায় ৭০ শতাংশ যেখানে, দক্ষিণ-পশ্চিম আটলান্টিকের সেই অংশে ১৯৭০ থেকে ২০০০-এর দশকের মধ্যে ক্রিলের ঘনত্ব ৭০ শতাংশ কমেছে, আর ক্রিল সরে গেছে উপকূলীয় মেরু অঞ্চলে, যেখানে পেঙ্গুইন, সিল ও জাহাজ একসঙ্গে শিকার করে। ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে অন্তত ছয়টি হাম্পব্যাক তিমি জালে আটকে মারা গেছে। প্লিমাউথ মেরিন ল্যাবরেটরির হিসাবে ক্রিল বছরে অন্তত ২ কোটি টন কার্বন আটকে রাখে।
নরওয়ে স্থানভিত্তিক নিয়ম ও তদারকির শর্তে আহরণসীমা প্রায় ১২ লাখ টনে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে, অন্যদিকে ২০১৬ সাল থেকে চীন ও রাশিয়া নতুন সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকার বিরোধিতা করে আসছে। অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব তাসমানিয়ার চেন জিলিয়াং বলেন, আগেভাগে জাহাজে বিনিয়োগ করায় আলোচনায় চীনের ছাড় দেওয়ার সুযোগ কমেছে; আহরণসীমা বাড়ালে তা সংরক্ষিত এলাকা ও আহরণ ছড়িয়ে দেওয়ার নিয়মের সঙ্গে মিলিয়েই করা উচিত। ইয়াংয়ের সতর্কবার্তা, অতিরিক্ত আহরণ হলে ঝুঁকি অনেক বড়।
ছবি: Uwe Kils / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Dialogue Earth




মন্তব্য
(০)