জাম্বিয়ার কিছু অঞ্চলে প্রতি শীতে পানি ঠান্ডা হলে মাছের বৃদ্ধি কমে, খাবার খাওয়া কমে যায়, বাজারের উপযোগী আকারে পৌঁছাতে বেশি সময় লাগে। লুসাকার ন্যাচারাল রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট কলেজের (এনআরডিসি) গবেষণাগারে তখন পানির তাপমাত্রা নামে প্রায় ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ফলে সারা বছর নির্ভরযোগ্যভাবে মাছের খাদ্যের কার্যকারিতা মাপা কঠিন হয়ে পড়ে। ৬ অক্টোবর ওয়ার্ল্ডফিশ জানিয়েছে, কলেজটির সঙ্গে মিলে তারা এর সমাধানের পরিকল্পনা করেছে।
নরওয়ের উন্নয়ন সংস্থা নোরাডের অর্থায়নে সাব-সাহারান আফ্রিকায় টেকসই মাছের খাদ্যবিষয়ক ফাসা প্রকল্পের আওতায় পেনাং ও জাম্বিয়ার ওয়ার্ল্ডফিশ দল লুসাকা ও সিয়াভঙ্গা সফর করে। এনআরডিসির সঙ্গে মিলে তারা গবেষণাগারটিকে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের, সব আবহাওয়ায় চলা পুষ্টি ও খাদ্য পরীক্ষার কেন্দ্রে রূপ দেওয়ার নকশা করেছে। ওয়ার্ল্ডফিশের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ম্যাথিউ ওয়েনের মতে, খাদ্যের কার্যকারিতা পরীক্ষা ও যাচাইয়ের নির্দিষ্ট জায়গা থাকলে জাম্বিয়া স্থানীয় মাছচাষি ও খাদ্য উৎপাদকদের বাস্তব সমস্যার সমাধান আরও ভালোভাবে বের করতে পারবে।
ন্যাশনাল মিলিং করপোরেশন (এনএমসি), নোভাটেক ও কামিম্বি ফিডস নামের তিনটি খাদ্য কোম্পানি খাদ্য পরীক্ষা, যাচাই, গবেষণা ও প্রশিক্ষণে ওয়ার্ল্ডফিশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক করতে নীতিগতভাবে রাজি হয়েছে। এনএমসির পশুখাদ্য বিভাগের মহাব্যবস্থাপক সভেন পিলব্লাড বলেন, সস্তা স্থানীয় কাঁচামাল আর ওয়ার্ল্ডফিশের রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম (আরএএস) গবেষণা সুবিধা কাজে লাগিয়ে তাঁরা আরও পুষ্টিকর ও কম দামের খাদ্য তৈরি করতে চান। নোভাটেকের পুষ্টিবিদ এভারেট পিটারসে বলেন, মানসম্পন্ন ও সাশ্রয়ী মাছের খাদ্য এখনো জাম্বিয়ার মাছচাষের বড় চ্যালেঞ্জ।
ওয়ার্ল্ডফিশের মৎস্যচাষ বিজ্ঞানী মেরি লুন্ডেবা বলেন, কোম্পানির অভিজ্ঞতা আর প্রকল্পের গবেষণা সক্ষমতা মিলিয়ে কাসাভা ও বিকল্প আমিষের মতো স্থানীয় উপকরণ যাচাই করে কম খরচের খাদ্য তৈরি করা যাবে। সরকারি অর্থায়নে যন্ত্র কেনা ছোট উদ্যোক্তাদেরও খাদ্য তৈরির সূত্র, মান নিয়ন্ত্রণ ও পণ্য পরীক্ষায় সহায়তা দরকার বলে তিনি জানান।
সফরে একটি জাতীয় মৎস্যখাদ্য কারিগরি কর্মদল গঠনের প্রস্তুতিও এগিয়েছে, যেখানে মৎস্য বিভাগ, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, গবেষক, খাদ্য উৎপাদক ও কৃষক সংগঠন একসঙ্গে অগ্রাধিকার ঠিক করবে, খাদ্যের মানদণ্ড সহজ করবে এবং স্থানীয় উপকরণ নিয়ে গবেষণা সমন্বয় করবে।
ছবি: Eunice Ayo-Aderele / WorldFish
সূত্র: WorldFish




মন্তব্য
(০)