কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়া দ্বীপে ম্যানগ্রোভ বা প্যারাবন কেটে গড়ে তোলা অবৈধ চিংড়িঘের উচ্ছেদ করবে নৌবাহিনী। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব গত ৩ আগস্ট অনুমোদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
বন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্যারাবনের ভেতরের অসংখ্য ছোট খাল দিয়ে জোয়ার-ভাটার পানি ঢোকে, তাতেই বাঁচে বনের বাস্তুতন্ত্র। দখলদাররা গাছ কেটে খালের মুখে বাঁধ দিয়ে চিংড়ি চাষ করায় বন শুকিয়ে প্রাণহীন হয়ে পড়ে। তাই বন ফেরাতে জোয়ার-ভাটার প্রবাহ ফিরিয়ে আনা জরুরি।
মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প পরিচালক ও যুগ্ম সচিব ফাহমিদা হক খান প্রথম আলোকে জানান, সশস্ত্র বাহিনীকে যুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন লাগে, যা আগস্টে মিলেছে। এ মাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, নৌবাহিনী ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সভায় উচ্ছেদের কর্মপরিকল্পনা ঠিক হবে। অভিযানে নৌবাহিনীর প্রায় চার কোটি টাকা লাগতে পারে, প্রকল্পে বরাদ্দ আছে দুই কোটি টাকা।
সোনাদিয়াকে ২০০৬ সালে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করা হয়। ২০১৭ সালে ইকোট্যুরিজম পার্কের জন্য ৯ হাজার ৪৬৬ দশমিক ৯৩ একর বনভূমি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষকে (বেজা) বরাদ্দ দেওয়া হলে বন বিভাগ আইনি কর্তৃত্ব হারায় এবং দখল বেড়ে যায়। বন বিভাগের অনুমান, অন্তত ৭ হাজার একর প্যারাবন কাটা হয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চে জমি ফেরতের সিদ্ধান্ত হয়; এ পর্যন্ত তিন মৌজার প্রায় ৮ হাজার ৪৫ একর ফিরেছে, ছয় মৌজার ১২ হাজার ২৭০ একর এখনো বেজার হাতে।
২০২৫ সালে মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন জরিপে ৪৫ কিলোমিটার বাঁধ চিহ্নিত করে উচ্ছেদে ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা চেয়েছিল; সে বছর ১১টি অবৈধ ঘের উচ্ছেদও করে। সোনাদিয়া বিট কর্মকর্তা আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, দখলে বাধা দিলে তাঁদের ওপর হামলা হয়; বিট অফিসে কর্মরত মাত্র ছয়জন, শত শত দখলদারকে ঠেকানোর জনবল নেই।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির বলেন, আগেও লোকদেখানো উচ্ছেদ হয়েছে; নৌবাহিনীকে যুক্ত করে সর্বাত্মক অভিযান ভালো খবর, তবে উচ্ছেদের পর জীববৈচিত্র্য ফেরানো আর নতুন করে ঘের ঠেকাতে কড়া তদারকি লাগবে। বাপার মহেশখালী শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিনুল হক বলেন, জনবল বাড়িয়ে বন বিভাগকে শক্তিশালী করতে হবে।
প্রতিবেদনটি প্রথম আলোর কক্সবাজার প্রতিনিধি মোস্তফা ইউসুফের।
ছবি: Zislam1968 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0) (সোনাদিয়া সৈকত)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)