বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন গত পাঁচ বছরে ধারাবাহিকভাবে কমেছে। শুধু বড় ইলিশ নয়, কমেছে ডিম, ডিম ফুটে বের হওয়া পোনা এবং খোকা ইলিশ হয়ে ওঠার সংখ্যাও। কলকাতার এই সময় পত্রিকার এক প্রতিবেদন এই হিসাব তুলে ধরেছে।
প্রতিবেদনে উল্লিখিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০-২১ সালে দেশে ইলিশ উৎপাদন ছিল ৫ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন, ২০২৩-২৪ সালে ৫ লাখ ২৯ হাজার টন, আর ২০২৪-২৫ সালে তা নেমেছে প্রায় ৫ লাখ টনে। চাঁদপুরে উৎপাদন ২০২০-২১ সালের ৩৩ হাজার ৯৯২ মেট্রিক টন থেকে ২০২৩-২৪ সালে কমে হয়েছে ৩২ হাজার ৩০৪ মেট্রিক টন।
ডিমের হিসাবেও পতন: ২০২২ সালে ইলিশের ডিম উৎপাদন হয়েছিল ৮ লাখ ৫ হাজার ৫১৫ কেজি, যা থেকে ৫০ শতাংশ হ্যাচিং হারে প্রায় ৪ লাখ ২ হাজার ৭৫৮ কোটি পোনা এবং ১০ শতাংশ বাঁচার হিসাবে প্রায় ৪০ হাজার ২৭৬ কোটি খোকা ইলিশ হয়েছিল। ২০২৫ সালে ডিম কমে ৭ লাখ ৯১ হাজার ৫৬৪ কেজি, পোনা প্রায় ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৭৮২ কোটি এবং খোকা ইলিশ প্রায় ৩৯ হাজার ৫৭৮ কোটিতে নেমেছে।
চাঁদপুরের বড়স্টেশন মাছঘাট মৎস্য সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক শবে বরাত বলেন, নদী বদলে গেছে, নাব্যতা কমেছে, তলায় পলি-বালি জমে অগভীর চর তৈরি হচ্ছে। চাঁদপুরের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফকরুল ইসলামের কথায়, "ইলিশ গভীর জলের মাছ। কিন্তু নদীতে সেই গভীরতা নেই।" এর সঙ্গে দূষণ, চট্টগ্রামের টং জাল ও সাগরের ট্রলি জালের মতো ক্ষতিকর জাল এবং নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও মাছ ধরার অভিযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের নদী কেন্দ্র, চাঁদপুরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. তায়েফা আহমেদ বলেন, উৎপাদন সবচেয়ে বেশি কমেছে গত দুই বছরে। কোন এলাকায় কত ইলিশ, কোন আকারের মাছ বেশি এবং কোন বয়সে ধরা নিরাপদ, তা জানতে "পপুলেশন ডাইনামিক্স অ্যান্ড স্টক অ্যাসেসমেন্ট অব টেনুয়ালোসা ইলিশা ইন বাংলাদেশ" নামে গবেষণা চলছে। এখন ২৫ সেন্টিমিটারের নিচে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ; এই মাপ বদলানো দরকার কি না, গবেষণার ফল দেখে সরকারকে জানানো হবে। বাংলাদেশের ইলিশ ডিম না ছেড়ে গুজরাটে চলে যাচ্ছে, এমন ধারণা তিনি নাকচ করেছেন।
ডিম ছাড়ার সময় জানতে এবারও পাঁচটি দল বিভিন্ন এলাকায় গবেষণা করছে। গবেষকদের মতে ৮ অক্টোবরের আগের দশ দিনে ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা কম, ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর বেশি; এই ২২ দিনই নিষেধাজ্ঞার সময়। বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শেখ আবিদ হোসেনের দাবি, ভারত থেকে আমদানি বন্ধ থাকলেও অবৈধ পথে গুজরাটের ইলিশ বাজারে ঢুকছে; কয়েক দিন আগে সুন্দরবন সীমান্ত দিয়ে প্রায় ৭৫ টন এসেছে বলে তিনি দাবি করেন।
প্রতিবেদনটি করেছেন এই সময়ের কৌশিক ভট্টাচার্য।
ছবি: Nahid.rajbd / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: এই সময়





মন্তব্য
(০)