জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে বছরে প্রায় ২০.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতি হচ্ছে, যা জিডিপির ৪.৬ শতাংশ, আর এর ৯৮ শতাংশই তাপজনিত। অথচ জলবায়ু-প্রাসঙ্গিক বাজেটে স্বাস্থ্যখাত পায় মাত্র ১.৫ থেকে ২.৪ শতাংশ। নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের এই গবেষণা বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকায় এক নীতি-সংলাপে উপস্থাপনের কথা; মেলিওর ফাউন্ডেশন ও গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশনস কাউন্সিলের সহায়তায় এটি হয়েছে।
মাঠের কৃষকের জন্য সবচেয়ে বড় হিসাব কর্মঘণ্টার। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে গরমে ২৯.২৫ বিলিয়ন সম্ভাব্য কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়েছে, যা ১৯৯০ সালের ২.৪ গুণ, এর ৬৪ শতাংশ কৃষিতে। এই কর্মঘণ্টার মূল্য ১৫.৮ বিলিয়ন ডলার। মডেলভিত্তিক হিসাবে ২০২৩ সালে গরমে প্রায় ১৬ হাজার মৃত্যু হয়েছে, অথচ তাপজনিত মৃত্যুর জাতীয় নিবন্ধন বা জাতীয় হিট-হেলথ পরিকল্পনা নেই।
২০২৪ সালে ৩৬ ডিগ্রি বা তার বেশি তাপমাত্রার দিন ছিল ২৮টি, ৪৬ বছরে সর্বোচ্চ। ৬৪ জেলার দৈনিক তথ্যে দেখা গেছে, অন্য জেলার চেয়ে ১ ডিগ্রি বেশি উষ্ণ জেলায় ডেঙ্গুতে ভর্তি ১৮ থেকে ২৪ শতাংশ বেশি, যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে ১৪ থেকে ২১ দিন পর; অর্থাৎ আবহাওয়া দুই-তিন সপ্তাহ আগেই সংকেত দেয়। ২৮ থেকে ৩০ ডিগ্রিতে সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি।
২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হন, মারা যান ১ হাজার ৭০৫ জন। ভর্তির দুই-তৃতীয়াংশ এখন ঢাকার বাইরে, কিন্তু মৃত্যুর ৫৭ থেকে ৬৪ শতাংশ ঢাকা সিটির হাসপাতালে। মডেলভিত্তিক হিসাবে ২০২৩ সালে কণাদূষণে প্রায় ২ লাখ ৬৩ হাজার মৃত্যু হয়েছে; ২০২৪ সালে গড় পিএম ২.৫ ছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকার প্রায় ১৫ গুণ।
অর্থের ঘাটতিও বড়। জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনার ১১৩টি হস্তক্ষেপের মাত্র ৩টি সরাসরি স্বাস্থ্যসংক্রান্ত, জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের ০.৫৮ শতাংশ গেছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫৯২ কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দের মাত্র ৩৭ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। চলতি স্বাস্থ্যব্যয়ের ৭৯ শতাংশ বহন করে পরিবার, সরকারি স্বাস্থ্যব্যয় জিডিপির মাত্র ০.৩১ শতাংশ।
গবেষণার ১২ সুপারিশের মধ্যে আছে ২০২৭ সালের গ্রীষ্মের আগে হিট-হেলথ অ্যাকশন প্ল্যান, বর্ষার আগে ডেঙ্গুর আগাম সতর্কতা, জেলা হাসপাতালে গুরুতর ডেঙ্গুর চিকিৎসা, প্রতি ত্রৈমাসিকে স্বাস্থ্যব্যয় প্রকাশ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের যৌথ তথ্যভান্ডার। প্রথম ধাপে কক্সবাজার, বরিশাল, ময়মনসিংহ, কুড়িগ্রামসহ ১৬টি জেলায় পাইলটের প্রস্তাব করা হয়েছে।
ছবি: বাংলাদেশের গ্রামে জমি চাষ, Mamun Mehedee / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)