দক্ষিণ আফ্রিকার ফল রপ্তানি খাত এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে শুধু বেশি উৎপাদন করলেই ভালো দাম নিশ্চিত হয় না—ব্রেডাসডর্পে নাম্পো কেপে প্রকাশিত অ্যাবসা ব্যাংকের অ্যাগ্রিট্রেন্ডস ২০২৬ বসন্ত সংস্করণের বরাতে এ খবর দিয়েছে ফার্মার্স উইকলি।
অ্যাবসা অ্যাগ্রিবিজনেসের কৃষি অর্থনীতিবিদ জামা সাঙ্গওয়েনি বলেন, লেবুজাতীয় ফলে পরিমাণ আর সমস্যা নয়; দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বের বৃহত্তম লেবুজাতীয় ফল রপ্তানিকারক, কিন্তু বাজার যথেষ্ট বৈচিত্র্যময় নয়। এ খাতের রপ্তানি আয় ২০০১ সালের প্রায় ৮ কোটি ডলার থেকে ২০২৫ সালে আনুমানিক ২৫০ কোটি ডলারে উঠেছে, কিন্তু এ বছর মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় সেখানকার বাজার বন্ধ হওয়ায় রপ্তানিকারকদের বিকল্প খুঁজতে হয়েছে। লেবু বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল, কমলার দাম প্রতিযোগী সরবরাহে স্পর্শকাতর, আর নতুন জাত ও সুবিধাজনক সময়ের কারণে ছোট লেবুজাতীয় ফল তুলনামূলক ভালো অবস্থায়।
২০২৫/২৬ মৌসুমে কিছু অঞ্চলে বৃষ্টি ও বন্যায় ফলের মান ও তোলার সময় প্রভাবিত হয়েছে, আর যেসব বাজারে দক্ষিণ আফ্রিকা আগে থেকেই শক্ত অবস্থানে, সেখানে অন্য দেশের প্রতিযোগিতা বেড়েছে।
টেবিল আঙুরে দেখা গেছে পরিবহন ব্যর্থতার খরচ। রপ্তানি প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৭ কোটি ৯০ লাখ কার্টন হয়েছে, কিন্তু ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে কেপটাউন বন্দরের অদক্ষতা ও ঝোড়ো বাতাসে চালান দেরি হওয়ায় ফল প্রতিযোগীদের ভরা মৌসুমের সময়ই বাজারে পৌঁছায়, দাম পড়ে যায়, মান নিয়ে দাবি ও নষ্ট ফল ফেলার খরচ বাড়ে। শিল্পের হিসাবে পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলে ক্ষতি ৩০০ কোটি র্যান্ড ছাড়িয়েছে।
নেডব্যাংকের কৃষি বিক্রয় প্রধান ড্যানিয়েল রসউ বলেন, এ বছরেই বন্দরের সমস্যা মিটবে বলে তিনি আশাবাদী নন। প্রতিবেদনের উপসংহার, উৎপাদন বৃদ্ধিকে মুনাফায় রূপ দিতে নির্ভরযোগ্য পরিবহন ও বিস্তৃত বাজার প্রবেশাধিকারই হবে নির্ধারক।
ছবি: Danie van der Merwe / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: Farmers Weekly South Africa





মন্তব্য
(০)