চীন থেকে আসা চাল ও চালজাত খাদ্যে এ বছর বারবার অননুমোদিত জিনগতভাবে পরিবর্তিত (জিএম) উপাদান পেয়েছে ইউরোপের খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ। দশকেরও বেশি পুরোনো এক নিয়ন্ত্রক সমস্যা এতে আবার সামনে এল।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের খাদ্য ও পশুখাদ্যের দ্রুত সতর্কীকরণ ব্যবস্থা র্যাসফ (Rapid Alert System for Food and Feed, RASFF)-এ ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২০২৬ সালের অন্তত ছয়টি নোটিফিকেশন নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে আছে রাইস নুডলস, মিসো পেস্ট, হাইড্রোলাইজড চালের আটা, চালের ক্র্যাকার ও রাইস স্টিক।
সর্বশেষ ঘটনা ৮ সেপ্টেম্বর, যখন ইতালির কর্তৃপক্ষ রাইস স্টিকে ‘এনওএস টার্মিনেটর’ নামে চিহ্নিত একটি অননুমোদিত জিএম উপাদান পায়। এর আগে ৩ ও ৬ আগস্ট ইতালি চালের ক্র্যাকারের দুটি চালান চিহ্নিত করে। নেদারল্যান্ডস ১৩ জুলাই হাইড্রোলাইজড চালের আটায় এবং ৬ জুলাই মিসো পেস্টে Cry1Ab/Ac বৈশিষ্ট্য পায়; বছরের প্রথম ঘটনাটি ছিল ১২ মার্চ, রাইস নুডলসে, সেটিও ডাচ কর্তৃপক্ষের শনাক্ত।
নোটিফিকেশন মানেই খাদ্যটি ভোক্তার কাছে পৌঁছেছে এমন নয়। ইইউর বহিঃসীমান্তে ফিরিয়ে দেওয়া চালান এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের অন্য ধাপের পণ্যের সতর্কবার্তাও র্যাসফে থাকে।
চীনা পণ্যে জিএম ধানের জাত পাওয়ার পর ২০১১ সালে ইউরোপীয় কমিশন জরুরি ব্যবস্থা নেয়; চীন থেকে আসা চাল ও আটা, স্টার্চ, নুডলসসহ চালজাত পণ্য এখনো বিশেষ আমদানি শর্তের আওতায়। তখন ইইউতে কোনো জিএম ধান অনুমোদিত ছিল না। চীন ২০০৯ সালে কীট প্রতিরোধী দুটি জিএম ধানের লাইনকে জৈবনিরাপত্তা সনদ দিলেও সেগুলো বাণিজ্যিকভাবে ছাড়া হয়নি; ২০২৫ সালের এক গবেষণা অনুযায়ী দেশটি এখনো বাণিজ্যিক চাষের জন্য জিএম ধান অনুমোদন করেনি। মার্কিন কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের শেষে চীন প্রথম জিন-সম্পাদিত ধানের জৈবনিরাপত্তা সনদ দেয়।
এদিকে চীন নিজেও আমদানিতে জিএম উপাদান যাচাই কঠোর করছে। জিএম উপাদান পাওয়ার কথা বলে এ বছর দেশটি ভারতের চালের চালান ফিরিয়ে দিয়েছে, যা ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা অস্বীকার করেছেন। চীনগামী চালের জিএমও পরীক্ষার জন্য ভারতের কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (APEDA) জুনে অনুমোদিত পরীক্ষাগারের তালিকা প্রকাশ করেছে।
এশিয়ার চাল রপ্তানিকারকদের জন্য এ ঘটনা দেখাচ্ছে, সীমান্তে জিএম পরীক্ষা এখন দুই দিকেই বাণিজ্যের বিষয়; পরীক্ষাগারের একটি ফলই ইউরোপ বা চীনে একটি চালান আটকে দিতে পারে।
ছবি: jeffreyw / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: AGDAILY





মন্তব্য
(০)