যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্য আলোচনা চলার মধ্যে মার্কিন শূকর ও গরুর মাংস এমন পণ্যের তালিকায় স্থান পেয়েছে, যেগুলো চীনের বাজারে বাড়তি বাণিজ্য সুবিধা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ৫ অক্টোবর ফার্মস ডটকম জানায়, বছরের পর বছর উচ্চ শুল্ক ও শুল্কবহির্ভূত বাধায় আটকে থাকা মার্কিন মাংস শিল্প একে প্রথম ধাপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে।
মিট ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী জুলি অ্যানা পটস বলেন, 'অসংবেদনশীল পণ্যের' তালিকায় গরু ও শূকরের মাংস দেখে তাঁরা খুশি; এতে মার্কিন মাংস রপ্তানির ওপর থাকা উচ্চ পাল্টা শুল্ক ও বাণিজ্য-সীমিতকারী বাধা দূর করার ভিত তৈরি হবে। আলোচনায় ভূমিকার জন্য তিনি রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ারকে ধন্যবাদ জানান, তবে মনে করিয়ে দেন, এখনো 'অত্যন্ত কারিগরি' কিছু বাধা মেটানো বাকি।
গরুর মাংস রপ্তানিকারকদের কাছে চীনের গুরুত্ব আলাদা। যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা যেসব অংশ কম কেনেন, যেমন পশুর ভেতরের অঙ্গসহ উপজাত মাংস (ভ্যারাইটি মিট ও অফাল), সেগুলোর চাহিদা চীনে বেশি; ফলে প্রতিটি পশুর মোট দাম বাড়ে। শিল্প সংগঠনগুলোর মতে, রপ্তানির চাহিদা বাড়লে খামারিরা গরুর পাল আবার বাড়াতে ভরসা পাবেন, আর দেশের বাজারে সরবরাহের চাপও কিছুটা কমবে।
দুই দেশ বোর্ড অব ট্রেডের অধীনে কৃষিবিষয়ক একটি কারিগরি কর্মদলও গঠন করছে। সরকারি কর্মকর্তা ও শিল্পের প্রতিনিধিরা সেখানে বসে বাকি বাধাগুলোর সমাধান খুঁজবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এমন একটি বাধা হলো যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গরুর মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার নিষেধাজ্ঞা। র্যাকটোপামিন বা মেলেনজেস্ট্রল অ্যাসিটেট (এমজিএ) জাতীয় পদার্থ পাওয়ার পর চীন কারখানাগুলোকে যোগ্য তালিকা থেকে বাদ দেয়। মার্কিন শিল্পের দাবি, আগের বাণিজ্য চুক্তির চেতনার সঙ্গে এটি মেলে না; তাঁরা স্পষ্ট ও কার্যকর একটি প্রক্রিয়া চান, যাতে কোনো কারখানা অনির্দিষ্টকাল আটকে না থাকে।
ফার্মস ডটকমের ২ অক্টোবর পর্যন্ত সপ্তাহের বাজার পর্যালোচনা অনুযায়ী, একই সপ্তাহে চীন ভুট্টা, গম, সরগাম, দুগ্ধপণ্য ও মাংসসহ কয়েকটি মার্কিন কৃষিপণ্যে শুল্ক কমিয়েছে, তবে সয়াবিন সেই তালিকায় নেই।
শূকরের মাংসের খামারিদের জন্যও চীনের বাজার বড়, কারণ দেশটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শূকরের মাংস ভোক্তা। শিল্প সংগঠনগুলো বলছে, আলোচনায় সময় লাগে; খামারিদের আয়ে কতটা প্রভাব পড়বে, তা নির্ভর করবে বাকি কারিগরি বাধাগুলো কীভাবে মেটে তার ওপর।
সূত্র: Farms.com




মন্তব্য
(০)