কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রমনা এলাকার গাতিরঘাটে প্রতিদিন দুই দফায় বসে মাছের হাট। সকাল ছয়টায় প্রথম দফা, বেলা আড়াইটার দিকে দ্বিতীয়। ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তায় ধরা মাছ নিয়ে দুই দফায় প্রায় ১৫০টি নৌকা ভেড়ে। স্থানীয় জেলেদের দাবি, হাটটি চলছে প্রায় ২০০ বছর ধরে, তবে ঠিক কত বছর আগে চালু হয়েছে, তা নিশ্চিত করে জানা যায়নি বলে জানিয়েছেন ইউএনও মাহমুদুল হাসান।
এই অস্থায়ী হাট ছোট মাছের জন্য পরিচিত। পুঁটি, ট্যাংরা, মলা, সরপুঁটি, গুলশা, চাপিলা, কাচকি, বেলে ও চিংড়ির পাশাপাশি মেলে চিতল ও বোয়াল, মাঝেমধ্যে বাগাড়ও। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি বরফ দিয়ে মাছ যায় দেশের নানা এলাকায়।
ঘাটের সঙ্গে অনেকের জীবিকা জড়িয়ে আছে। প্রবীণ বিক্রেতা ফুলেল চন্দ্র দাস (৮০) প্রায় ৬০ বছর ধরে মাছ কেনাবেচা করছেন, দিনে আয় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। পাত্রখাতার ক্ষিতীশ দাস (৬৫) বয়সের কারণে আর নদীতে যান না, ঘাট থেকে মাছ কিনে স্থানীয় বাজারে বেচে দিনে পান ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।
তবে এই ব্যস্ততার আড়ালে আছে সংকট। জেলেরা বলছেন, নদীতে আগের মতো মাছ মিলছে না, অথচ ডিজেলের বাড়তি দাম আয় কমিয়ে দিয়েছে। জেলে পুতুল চন্দ্র দাসের (৪২) হিসাবে, এক দিন মাছ ধরতে ৮ থেকে ১০ লিটার ডিজেল লাগে এবং এক নৌকায় কাজ করেন পাঁচ-ছয়জন।
সাত বছর আগে নৌকা দুর্ঘটনার পর মাছ ধরা ছেড়েছেন সন্তোষ চন্দ্র দাস (৬৭), তবু সকাল-বিকেল ঘাটে আসেন। অন্য কাজ জানা নেই বলে এই ঘাটের মানুষের সহযোগিতাই তাঁর ভরসা।
প্রতিবেদন: মো. জাহানুর রহমান।
সূত্র: প্রথম আলো


মন্তব্য
(০)