সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ৮ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭০%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

১২ বার ভিটা কেড়েছে ব্রহ্মপুত্র, তবু চর ছাড়েননি চিলমারীর কৃষক অপিয়ল

কুড়িগ্রামের চিলমারীর চর বজরা দিয়ারখাতার ৭৩ বছরের অপিয়ল ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে জীবনে ১২ বার বসতভিটা হারিয়েছেন। ছেলের জন্য উপজেলা শহরে বাড়ি করলেও নিজে চরে আমন আর ভুট্টা চাষ করেই বাকি জীবন কাটাতে চান।

১২ বার ভিটা কেড়েছে ব্রহ্মপুত্র, তবু চর ছাড়েননি চিলমারীর কৃষক অপিয়ল
ফসল

ফজরের নামাজ পড়েই ব্রহ্মপুত্রের দিকে তাকান অপিয়ল। পানি বাড়ছে না কমছে, বাতাস কোন দিক থেকে বইছে, তা দেখেই ঠিক করেন দিনের কাজ। ৭৩ বছরের এই কৃষকের জন্ম কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার চর বজরা দিয়ারখাতায়। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে জীবনে ১২ বার বসতভিটা হারিয়েছেন তিনি; ২০২৫ সালেও ভেঙেছে ভিটার একাংশ আর ধানের জমির কিছুটা।

অপিয়লের বাবা ছনদ্দি মুন্সি পাকিস্তান আমলে ৬০ বিঘা জমির মালিক ছিলেন। স্বাধীনতার প্রায় ১০ বছর পর কয়েক বছরের ভাঙনে সেই জমির সবটাই নদীতে যায়, সচ্ছল পরিবারটি রাতারাতি নিঃস্ব হয়। দিনমজুরি আর মাটি কাটার আয়ে সংসার চলত। পরে একটি গাভি কেনেন; স্ত্রী বানেছা বেগম গাভির যত্ন নিতেন, দুধ বিক্রি আর মজুরির টাকা জমিয়ে ১৯৯৫ সালে দুই বিঘা জমি কেনেন তাঁরা।

বছর দশেক হলো বাবার জমির প্রায় ৪০ বিঘা আবার জেগে উঠেছে, কিন্তু তার একাংশ এখন প্রভাবশালীদের দখলে। অপিয়ল বলেন, ‘চোখের সামনত বাবার জমি, এল্যা সেই জমি অন্য মানুষ চাষ করে। আমার লাঠির জোর নাই, তাই জমিত যাবার পাই না।’

এখন নিজের কেনা আর বর্গা নেওয়া জমি মিলিয়ে কয়েক বিঘায় চাষ করেন তিনি: বজরা দিয়ারখাতায় দুই বিঘায় আমন, পাশের বান্ডালের চরে তিন বিঘায় ভুট্টা। চরের বালুমাটি পানি ধরে রাখতে পারে না বলে ধান ভালো হয় না, ভুট্টা হয়। অপিয়লের হিসাবে হাল, বীজ, সার আর সেচ মিলিয়ে বিঘাপ্রতি ভুট্টায় খরচ প্রায় ৩৫ হাজার টাকা; ফলন আর দাম ভালো হলে লাভ থাকে ২৫ থেকে ৩০ হাজার।

ফসল ওঠার আগে নগদ টাকা থাকে না, তাই সার আর তেল কিনতে হয় মহাজনের কাছ থেকে বাকিতে, বাড়তি দামে। ফসল বেচতে প্রথমে ঘোড়ার গাড়ি, তারপর নৌকায় যেতে হয় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার দূরের জোড়গাছ হাটে; ভাড়া, কুলির মজুরি আর হাটের টোলে লাভ আরও কমে, দাম পড়ে গেলে কিছুই থাকে না।

ছেলে মাসুদ রানা (৩৩) স্নাতকোত্তর পাস করে সরকারি চাকরির চেষ্টা করেছিলেন, পরে কয়েক বছর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাইক্রোক্রেডিট শাখায় কাজ করে পাঁচ বছর আগে গ্রামে ফিরেছেন। এখন বাবা-ছেলে একসঙ্গে খেতে কাজ করেন। দুই বছর আগে ভুট্টা আর গরু বিক্রির টাকায় প্রায় আট লাখ টাকা খরচ করে চিলমারী উপজেলা শহরে ছেলের জন্য বাড়ি করেছেন অপিয়ল, যাতে ভাঙনের বাইরে অন্তত একটা ঠিকানা থাকে।

তবু নিজে চর ছাড়তে চান না অপিয়ল। এই চরের মাটি, নদী, খেত আর গরুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর জীবন। শেষ বয়সে তাঁর চাওয়া সামান্য: কৃষিকাজ করেই বাকি জীবন কাটানো, কারও কাছে যেন হাত পাততে না হয়, আর স্ত্রী যেন একটু ভালো থাকেন।

ছবি: Atiqur Rahman / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: প্রথম আলো

প্রথম আলোসূত্র

ফসল

সম্পর্কিত খবর

ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি কমেছে ২৯ শতাংশ, কৃষ্ণসাগর-হরমুজের সংকটে মধ্যপ্রাচ্যে খাদ্য উদ্বেগএগ্রোবিজ

ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি কমেছে ২৯ শতাংশ, কৃষ্ণসাগর-হরমুজের সংকটে মধ্যপ্রাচ্যে খাদ্য উদ্বেগ

কৃষ্ণসাগরে জাহাজে হামলা চার গুণ বাড়ায় ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি আগের মৌসুমের চেয়ে ২৯ শতাংশ কমেছে, নভেম্বরের মধ্যে ৯০ লাখ টনের বেশি শস্য রাখার জায়গা না-ও মিলতে পারে। হরমুজে সার ও জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নের সঙ্গে মিলে মিসর থেকে ইয়েমেন পর্যন্ত খাদ্যনিরাপত্তা ঝুঁকিতে।

আজকের পত্রিকা৮ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
তামাক ছেড়ে পেঁপে: কুষ্টিয়ার মিরপুরে বিঘায় খরচ ৬০ হাজার, প্রথম চালানেই ১ লাখ ৭ হাজার টাকাফল

তামাক ছেড়ে পেঁপে: কুষ্টিয়ার মিরপুরে বিঘায় খরচ ৬০ হাজার, প্রথম চালানেই ১ লাখ ৭ হাজার টাকা

যশোর অঞ্চল টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রশিক্ষণ নিয়ে কুষ্টিয়ার মিরপুরের মশান গ্রামের জামিরুল ইসলাম তামাক ছেড়ে এক বিঘায় পেঁপে করেছেন; প্রথম চালানেই কেজি ১৫ টাকায় ১ লাখ ৭ হাজার টাকা বিক্রি। কৃষি বিভাগের হিসাবে বিকল্প ফসলে আয় তামাকের অন্তত চার গুণ।

বাসস৮ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
কানসাটের স্লুইচ গেট বন্ধ, খিরির বিলে ৩৫ হাজার বিঘায় সরিষা আবাদ অনিশ্চিতফসল

কানসাটের স্লুইচ গেট বন্ধ, খিরির বিলে ৩৫ হাজার বিঘায় সরিষা আবাদ অনিশ্চিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে পাগলা নদীর মুখে পাউবোর স্লুইচ গেট খোলার এক ঘণ্টার মধ্যে আবার বন্ধ হওয়ায় খিরির বিলের ৩৩ থেকে ৩৫ হাজার বিঘা দুই ফসলি জমি এখনো পানির নিচে; প্রায় চার হাজার কৃষক সরিষাসহ রবি শস্য নিয়ে দুশ্চিন্তায়।

একাত্তর টিভি৮ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)