রাজশাহীর চারঘাটে পদ্মা ও বড়াল নদীর মোহনায় "মিনি সুন্দরবন" নামে পরিচিত বনায়নের বড় বড় গাছ রাতের আঁধারে চেইনসো দিয়ে কেটে নিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র। মিনি ট্রাক বা ভ্যানে করে গাছ যাচ্ছে করাতকলে, পড়ে থাকছে গুঁড়ি। গ্রামীণ সড়কের পাশের গাছের পর এবার নদীর তীররক্ষা বাঁধের গাছও উধাও হচ্ছে।
পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর অভিযোগ, গত দুই বছরে উপজেলায় অন্তত পাঁচ হাজার গাছ কাটা হয়েছে, অথচ সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তর থানায় অভিযোগ করেনি। বন বিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) মধ্যে চলছে দায় এড়ানোর চেষ্টা। উপজেলা বন বিভাগের হিসাবে, চারঘাটের সড়ক ও নদীতীরের প্রায় ১০০ কিলোমিটারে সামাজিক বনায়নের প্রায় এক লাখ গাছ আছে, আর এলজিইডি ও বিএমডিএর লাগানো গাছ প্রায় ২০ হাজার; বয়স পাঁচ থেকে ৩০ বছর।
২০০৯ সালে বড়ালের উৎসমুখ খননের পর মোহনায় খয়ের, মেহগনি, কড়ইসহ পাঁচ হাজারের বেশি গাছ লাগানো হয়েছিল, যাতে বিজিবি ক্যাম্প, থানা, উপজেলা পরিষদ ও আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভাঙনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পায়। স্থানীয় কৃষক মোক্তার হোসেন বলেন, রাত হলেই চক্রটি এসে গাছ কেটে নেয়, বন বিভাগের লোকজন দেখতে আসেন না। সামাজিক বনায়ন সমিতির সদস্য আব্দুল মান্নান জানান, গাছ কাটতে আসা লোকদের কাছে দেশীয় অস্ত্র থাকে, তবে বন বিভাগকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, চক্রটি রাত ১টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকে; আগে থেকে চিহ্নিত গাছ পাঁচ থেকে সাত মিনিটে কেটে ফেলে, করাতকলে দ্রুত টুকরো করায় উৎস শনাক্ত করা কঠিন হয়। ভায়ালক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের বাঁকড়া বাজার-রায়পুর সড়কের পাশে লাখ টাকার মেহগনি গাছ কাটা হয়েছে; হাবিবপুর-মৌলভাগ-বাসুদেবপুর সড়ক প্রশস্ত করার সময় দরপত্র ছাড়াই প্রায় ৩০০ গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বন বিভাগ জানিয়েছে, চারঘাটের ৩৮টি করাতকলের মধ্যে অনুমোদন আছে মাত্র ১৩টির। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনুমোদনহীন করাতকলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় চোরাই গাছের বেচাকেনা সহজ হচ্ছে, আর বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগও উঠেছে। নিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, পুরোনো সরকারি গাছ দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রি করে নতুন গাছ লাগানো উচিত; না হলে একসময় রাস্তার দুই পাশ ফাঁকা হয়ে যাবে।
প্রতিবেদনটি সমকালের চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধির।
সূত্র: সমকাল



মন্তব্য
(০)