চাঁদপুর সদর উপজেলার মেঘনা তীরের ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের মুখদ্দি ও তালতাতলী এলাকায় সহস্রাধিক একর কৃষিজমি দখল করে ঝিল কাটা ও মাটি বিক্রির অভিযোগে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে ঝিলগুলোর বাঁধ কেটে দেওয়া হয় এবং ঝিলে চাষ করা মাছ নদীতে ছেড়ে দেওয়া হয়, জানিয়েছে সমকাল। অভিযানের আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা যায়নি।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম এন জামিউল হিকমা জানান, সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন সহস্রাধিক একর জমি দখল করে অবৈধভাবে মাটি কেটে ঝিল বানিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছিল। এর আগে প্রশাসন প্রায় ৪০ বার অভিযান চালালেও দখল থামেনি; দুর্গম এলাকা আর উত্তাল মেঘনার কারণে অভিযান চালানোও কঠিন। মাটি কাটা ও ঝিলে মাছ চাষের ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে, আসামি প্রায় ৪৮ জন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্র ৭০ থেকে ১০০টি ঝিল কেটে তাঁদের কৃষিজমি ও সরকারি খাসজমি দখল করেছে, জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে ইটভাটাসহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করেছে; বাধা দিলে হুমকি ও মারধর করা হতো। প্রশাসনের ভাষ্য, দখলদারদের অধিকাংশ শরীয়তপুর থেকে আসা, সঙ্গে চাঁদপুরের স্থানীয় প্রভাবশালীরাও আছেন।
ভুক্তভোগী নুরুল ইসলাম রাঢ়ী বলেন, এসব জমিতে তাঁদের পূর্বপুরুষেরা নানা ফসল চাষ করতেন, ক্ষমতার প্রভাবে একটি চক্র জমি দখল করে মাটি বিক্রি করেছে। ইদ্রিস আলীর অভিযোগ, মুখদ্দিতে তাঁর পৈতৃক ২২ একর জমিতে মাটি কাটায় বাধা দিতে গেলে তাঁদের মারধর করা হয়।
অভিযানে উপস্থিত চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, এভাবে চলতে থাকলে কৃষিজমি কমে যাবে, জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাঁর ভাষ্য, উদ্ধার হওয়া খাসজমি নিয়ম মেনে এলাকার ভূমিহীনদের বন্দোবস্ত দেওয়া হবে, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি মালিকদের বুঝিয়ে দেওয়া হবে, আর সেখানে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সম্ভাবনাও আছে।
ছবি: মেঘনা নদীতে মাছ ধরার নৌকা, Nurunnaby Chowdhury (Hasive) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: সমকাল




মন্তব্য
(০)