সেন্টার পিভট সেচযন্ত্র মাঠের প্রতিটি অংশ দিয়ে বারবার ঘোরে, অথচ ফসল সম্পর্কে কৃষককে প্রায় কিছুই জানায় না। অটোনোমাস পিভট (Autonomous Pivot) নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই যন্ত্রকেই চলমান পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্মে বদলে দিচ্ছে, যা মাটির আর্দ্রতা, ফসলের স্বাস্থ্য ও মাঠের অবস্থা সরাসরি জানায়।
প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয় বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল জেনকিন্স বলেন, মাঠে পিভটের চেয়ে বেশি সময় আর কিছু থাকে না, তবু বেশির ভাগ পিভট ফসল সম্পর্কে প্রায় কিছুই বলে না।
এতে আছে ক্যামেরা, ভূগর্ভ ভেদী রাডার, জিপিএস, বৃষ্টিমাপক যন্ত্র এবং সেচের তথ্য। ক্যামেরা পাঁচ মিনিট পরপর পর্যন্ত দূরের ও কাছের ছবি তোলে, যাতে চারা গজানো, বৃদ্ধির ধাপ, পোকা, রোগ, আঘাত ও পুষ্টির ঘাটতি বোঝা যায়। রাডার মাটি না খুঁড়েই আর্দ্রতা মাপে, আর জিপিএস প্রতিটি পাঠকে পিভটের অবস্থানের সঙ্গে মেলায়।
মূল কাজ স্বয়ংক্রিয় পানির হিসাব রাখা। মাটির পানি ধারণক্ষমতা, দেওয়া সেচ ও মাঠের মাপ থেকে পুরো মাঠে আর্দ্রতা কীভাবে বদলাচ্ছে, তা ধরা হয়। একটি অ্যাপ মাঠকে আট ভাগে ভাগ করে দেখায়, প্রতি পাকে কোন অংশে আর্দ্রতা বাড়ছে, ঠিক থাকছে বা কমছে। জেনকিন্স জানান, এতে মাঠের চারপাশ থেকে শত শত তথ্যবিন্দু পাওয়া যায়।
২০২৬ মৌসুমে কানাডার ম্যানিটোবায় এমিলির (EMILI) ইনোভেশন ফার্মস ম্যাকগ্রেগর খামারে যন্ত্রটি বসানো হয়েছে। সেখানে দেখা হচ্ছে, এটি মাঠের অবস্থা কতটা বুঝতে পারে, সেচের দক্ষতা বাড়ায় কি না এবং আগেভাগে পোকা ও রোগ ধরতে পারে কি না।
লক্ষ্য, কৃষকের হাতে থাকা যন্ত্র দিয়েই কম পানিতে ঠিকমতো সেচ দেওয়া এবং ফসলের সমস্যায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া, শুধু স্থির মাটির সেন্সরের ওপর নির্ভর না করে।
ছবি: Bob Heims, U.S. Army Corps of Engineers / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: Farms.com





মন্তব্য
(০)