ইকুয়েডরের তুঙ্গুরাউয়া (Tungurahua) প্রদেশের কৃষকেরা রাসায়নিক বালাইনাশকের ক্ষতি সম্পর্কে মোটামুটি সচেতন, কিন্তু পোকা বা রোগ দেখা দিলে এখনো প্রথমেই স্প্রে হাতে নেন। আন্তর্জাতিক কৃষি গবেষণা সংস্থা ক্যাবির (CABI) নেতৃত্বে করা এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে 'অ্যাডভান্সেস ইন এগ্রিকালচার' সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় এ চিত্র উঠে এসেছে।
গবেষকেরা একই অঞ্চলের তিন ধরনের খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থার ১৬২ জন কৃষকের সঙ্গে কথা বলেছেন: সালাসাকার আদিবাসী পারিবারিক খামার, ইজাম্বার উদ্যান ফসল আর পাতাতের ফলবাগান। কৃষক কতটা বালাইনাশক দেন, এর লাভ-ক্ষতি কীভাবে দেখেন, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (আইপিএম) ও জৈব নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে কী জানেন, তা জানতে চাওয়া হয়।
বেশির ভাগ কৃষক ঝুঁকির কথা স্বীকার করেছেন, অনেকে বালাইনাশকের সংস্পর্শে আসার মতো উপসর্গেও ভুগেছেন। আগের গবেষণার বরাতে লেখকেরা বলছেন, সেখানে কৃষকেরা প্রায়ই কয়েকটি ওষুধ মিশিয়ে দেন, কোনোটি নির্ধারিত মাত্রার বেশি দেন, আবার স্প্রের পর নিরাপদ সময় পার হওয়ার আগেই ফসল তোলেন। এতে ফসলে বিষের অবশেষ থেকে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
সচেতনতা যে কাজে দেয়, তারও প্রমাণ মিলেছে। ইজাম্বার কৃষকেরা ঝুঁকি সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জানেন এবং আইপিএম ব্যবহারেও তাঁরা এগিয়ে। পাতাতের ফলচাষিরা বিকল্প সম্পর্কে কম জানেন, রাসায়নিকের ওপরই বেশি নির্ভর করেন। সালাসাকার আদিবাসী কৃষকেরাও কম জানেন; ঘরে বানানো উদ্ভিজ্জ নির্যাস ছাড়া অন্য বিকল্প তাঁরা খুব কম ব্যবহার করেন।
বাধা শুধু জ্ঞানের নয়। অনেক কৃষক পরামর্শ নেন বালাইনাশকের দোকান থেকে, স্বাধীন কৃষি সম্প্রসারণকর্মীর কাছ থেকে নয়। গ্রামে জৈব বালাইনাশক সহজে মেলে না, আর কৃষকের ধারণা, এগুলোর দাম রাসায়নিকের চেয়ে বেশি। সুরক্ষা সরঞ্জাম দরকার জেনেও কেনার সামর্থ্য না থাকলে সে জ্ঞান কাজে আসে না।
লেখকদের মতে, কৃষককে শুধু কম স্প্রে করতে বললে চলবে না। প্ল্যান্ট ক্লিনিক, কৃষক মাঠ স্কুল ও প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যমে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ, সাশ্রয়ী জৈব উপকরণ ও সুরক্ষা সরঞ্জাম, আর প্রতিটি এলাকার উপযোগী পরামর্শ দরকার। যেমন সালাসাকায় প্রচলিত জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে প্রশিক্ষণ, পাতাতে ফলবাগানের আইপিএম ও পোকা পর্যবেক্ষণ।
ছবি: Jeff Vanuga, USDA NRCS / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: Global Agriculture





মন্তব্য
(০)