ওয়েলসের এক ভেড়ার খামার এবারের গ্রীষ্মের খরা পার করেছে লুসার্নের জোরে। পাউইসের ব্রেকনে নিউটন ফার্মে (Newton Farm) টিউডর রডারিক (Tudor Roderick) ও তাঁর বাবা-মা রিচার্ড ও হেলেন গভীরমূল এই খরাসহনশীল ডালজাতীয় ঘাসের জমি ৬.৯ হেক্টর (১৭ একর) থেকে বাড়িয়ে ১২ হেক্টর (৩০ একর) করেছিলেন। জুন থেকে আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি না হওয়া আর রেকর্ড তাপে খামারের ঘাস যখন থেমে গেছে, লুসার্ন তখন চরানোর পরও আবার গজিয়েছে।
৩৪৪ হেক্টরের খামারটির অর্ধেক নিজেদের, অর্ধেক ইজারায়; আছে ১,১০০ রমনি-ক্রস ভেড়ি, রাখা ৩০০ বাচ্চা ভেড়ি আর ১২০টি স্ট্যাবিলাইজার গাভি। লুসার্নে থাকা যমজ বাচ্চারা দুধ ছাড়ানো পর্যন্ত দিনে গড়ে ৩২০ গ্রাম ওজন বাড়িয়েছে এবং গড়ে ১৮.৫ কেজি ড্রেসড ওজনে বিক্রি হয়েছে—রডারিকের ভাষায় তখন খামারের বাকি অংশ ‘আক্ষরিক অর্থেই বন্ধ’ ছিল।
২০২৪ সালে ওয়েলসের কৃষকদের নতুন কিছু পরীক্ষার খরচ দেওয়া ফার্মিং কানেক্ট ‘ট্রাই আউট ফান্ড’-এর সহায়তায় প্রথম লুসার্ন বোনা হয়; পরের বছর আরেকটি মাঠ যোগ হয়। বেশির ভাগ জমিতে চরানোর জন্য উদ্ভাবিত জাত লুজেল—যার মুকুট মাটির কাছাকাছি, কাণ্ড বেশি, আঁশ কম, প্রোটিন বেশি; সামান্য অংশে কাটার জাত আর্টেমিস। রডারিক লুসার্ন বোনেন যবের নিচে, সঙ্গে টিমোথি ঘাস ও সাদা ক্লোভার মিশিয়ে—এই মিশ্রণ পুষ্টির ভারসাম্য রাখে এবং পেটফাঁপা ও কিছু ক্লস্ট্রিডিয়াল রোগ ঠেকায়।
ফসলের বয়সই আসল। ২০২৬-এ সবচেয়ে ভালো করেছে তৃতীয় মৌসুমের লে; পরিণত গাছের শিকড় তিন মিটার পর্যন্ত নেমে গভীর থেকে পানি টানে। প্রথম দুই বছর গাছ শিকড় গড়ায় ব্যস্ত থাকে, তাই ২০২৫-এর শুকনো সময়ে বৃদ্ধি বেশ কমে গিয়েছিল। এ বছর বৃদ্ধি এতটাই বেশি যে একটি প্যাডক আবর্তন থেকে সরিয়ে নিতে হয়েছে—ভেড়ারা খেয়ে কুলিয়ে উঠতে পারছিল না।
চরানো হয় এক হেক্টরের প্যাডকে; বাচ্চা দেওয়ার সময় ৪০–৫০ জোড়া যমজ দিয়ে শুরু হওয়া পাল দুধ ছাড়ানোর আগে দাঁড়ায় ৩০০ ভেড়ি ও পাঁচ শতাধিক বাচ্চায়। লুসার্নে গড়ে ২৪ শতাংশ ক্রুড প্রোটিন আর প্রতি কেজি শুষ্ক পদার্থে ১২ মেগাজুল বিপাকযোগ্য শক্তি থাকে। নভেম্বরে প্রজননকালীন ভেড়ি দিয়ে একবার চরিয়ে মার্চের মাঝামাঝি-শেষ পর্যন্ত মাঠ ছেড়ে রাখা হয়; ভেজা শীতে চরালে গাছ মরে যাবে বলে রডারিকের ধারণা। ঘাস খুব ছোট করে খাওয়ানোর চেষ্টাও তিনি ছেড়েছেন—খড়খড়ে মাঠ রেখে এলেই বরং দ্রুত গজায়।
একমাত্র সমস্যা পায়ের ‘স্কাল্ড’—শক্ত কাণ্ড খুরের ফাঁকে ঢুকে যায়; ফুটবাথে তা সেরে যায়। সবাই যে পেটফাঁপার ভয় দেখিয়েছিলেন, তা একবারও হয়নি। শুকনো গ্রীষ্ম বাড়বে ধরে নিয়ে পরিবারটি এখন খামারের ১৫–২০ শতাংশে লুসার্ন আনতে চায়, ভেজা বছরের জন্য বাকি জমিতে থাকবে পেরেনিয়াল রাইগ্রাস ও ক্লোভার। সাইলেজ হয় সামান্যই—রডারিকের কথায় গুণমান এতই ভালো যে দুগ্ধবতী ভেড়িকে তখনই খাওয়ানো উচিত।
গরু লুসার্নে চরানো হয় না; ষাঁড়গুলো ঘরে দানাশস্যে ১৩–১৪ মাসে মোটাতাজা হয়। খাসি করে বলদ পালনে গেলে ধীরে অভ্যস্ত করে পরীক্ষা করবেন বলে জানান তিনি। ট্রাই আউট ফান্ডের মাধ্যমে স্বাধীন ঘাস ও পশুখাদ্য বীজ বিশেষজ্ঞ ফ্রান্সিস ডান (Francis Dunne) পরিবারটিকে পরামর্শ দিয়েছেন; তহবিলটি ২ ডিসেম্বর নতুন আবেদনের জন্য খুলছে। ফার্মার্স উইকলির জন্য প্রতিবেদনটি করেছেন ডেবি জেমস (Debbie James)।
সূত্র: Farmers Weekly

মন্তব্য
(০)