মা ইলিশকে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) থেকে ভোলার নদ-নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা চলবে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। এই ২২ দিন ইলিশ ধরার পাশাপাশি মজুত, কেনাবেচা, পরিবহন ও বাজারজাত করাও নিষিদ্ধ।
মৎস্য বিভাগের হিসাবে ভোলার সাত উপজেলায় নিবন্ধিত জেলে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৭০ জন। এঁদের মধ্যে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৫৬ জন জনপ্রতি ২৫ কেজি করে ভিজিএফের চাল পাবেন। এক-দুই দিনের মধ্যে চাল বিতরণ শুরুর কথা রয়েছে।
জেলেরা বলছেন, ২২ দিনের জন্য ২৫ কেজি চাল একটি পরিবারের জন্য যথেষ্ট নয়। ভোলা সদরের ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. এরশাদ মিয়া চালের পরিমাণ অন্তত ৫০ কেজি করার এবং তেল-ডালের মতো নিত্যপণ্যের জন্য অন্তত ৫ হাজার টাকা নগদ সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। নিষেধাজ্ঞার সময়ে ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখার দাবিও তুলেছেন জেলেরা।
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, মাইকিং, লিফলেট ও পোস্টারে নিষেধাজ্ঞার প্রচার চলছে; নিষেধ অমান্য করে কেউ নদীতে নামলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিষেধাজ্ঞার সময় কিস্তি আদায় স্থগিত রাখতে এনজিও ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এই কর্মকর্তার হিসাবে দেশের নদ-নদীতে বছরে প্রায় পাঁচ লাখ মেট্রিক টন ইলিশ হয়। মা ইলিশ নিরাপদে ডিম ছাড়তে পারলে শুধু ভোলার নদ-নদীর ইলিশেই দেশের চাহিদা মেটানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ, অ্যাকুয়াকালচার অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী জানান, একটি মা ইলিশ প্রায় ৩ লাখ থেকে ২৩ লাখ পর্যন্ত ডিম দিতে পারে।
মৎস্য বিভাগ জানায়, উপকূলের ৭ হাজার ১৩৪ বর্গকিলোমিটারের প্রধান প্রজনন এলাকায় এ সময় সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। মৎস্য বিভাগের সঙ্গে নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, পুলিশ ও প্রশাসন যৌথভাবে অভিযান চালাবে। সরকারের ২৯ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নির্ধারিত নদ-নদী ও ২০টি জেলার বিভিন্ন এলাকায় এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর।
প্রতিবেদনটি এগ্রিকেয়ার২৪ প্রকাশ করেছে বাসসের সূত্রে।
ছবি: Toushik.hamid / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪





মন্তব্য
(০)