সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও নাটোরের ১৪টি উপজেলাজুড়ে বিস্তৃত চলনবিল থেকে নির্বিচারে শামুক তোলায় হুমকিতে পড়েছে বিলের জীববৈচিত্র্য। কয়েক বছর ধরে দল বেঁধে দিনভর শামুক তুলে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে, অথচ স্থানীয় প্রশাসন নির্বিকার বলে অভিযোগ।
একসময় চলনবিলের শামুক কুড়িয়ে হাঁসকে খাওয়াতেন খামারিরা; বন্যার পানি নামলে শামুক ডোবায় রেখে সারা বছর হাঁস পালতেন। শামুকের প্রাচুর্যে বিলজুড়ে শত শত হাঁসের খামার গড়ে উঠেছিল, দেখা মিলত পরিযায়ী শামুকখোল পাখিরও।
এখন সিরাজগঞ্জের তাড়াশে শামুক তোলা আর বিক্রি রমরমা। চাহিদার কারণে চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও সিংড়ায় ৫০টির বেশি আড়ত গড়ে উঠেছে, সেখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ২০০ টন শামুক-ঝিনুক ট্রাকে যাচ্ছে বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরার চিংড়ি ও মাছের ঘেরে। আড়তদারেরা বস্তাপ্রতি ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায় কিনে ঘেরমালিকদের কাছে বেচছেন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। শামুকের মাংস চিংড়ির খাবার, খোলস গুঁড়া করে হয় ফিশমিল, পোলট্রি ফিড আর চুন।
চলনবিলের ১৬টি নদী, ৩৯টি বিল ও ২২টি খাঁড়ি থেকে বৈশাখের মাঝামাঝি থেকে অগ্রহায়ণ পর্যন্ত শামুক তোলা চলে, মূল মৌসুম আষাঢ় থেকে কার্তিক। ধান, পাট বা কচুরিপানায় ভেসে থাকা শামুক জালের ফাঁদে টেনে ডিঙিতে তোলা হয়, রোদ বাড়ার আগে ভোরেই। বর্ষায় কাজ না থাকায় এটি দরিদ্র পরিবারের প্রধান আয়: তাড়াশের ডাহিয়া গ্রামের কামাল মিয়া পরিবার নিয়ে দিনে দুই বস্তা তুলে আয় করেন ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, প্রতিবন্ধী স্বামীর সংসার চালাতে আসমা বেগম এক বস্তায় পান ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম জানান, চলনবিলে মূলত আপেল শামুক ধরা হয়, যা জলাভূমির খাদ্যশৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বর্ষা শেষে শামুক মাটিতে মিশে পচে প্রাকৃতিকভাবে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও পটাশ জোগায়; অবাধ নিধনে জমির উর্বরতা কমছে, পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত তদারকি আর সচেতনতা না হলে বিলের জীববৈচিত্র্য চিরতরে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিবেদনটি পাঠিয়েছেন কৃষি সময়ের সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা।
ছবি: Shahnoor Habib Munmun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)