উদ্ভিদভিত্তিক মাংসের বিকল্প পণ্যে মাংসের নাম ব্যবহারের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়ানোর যে প্রস্তাব উঠেছে, তা প্রত্যাখ্যান করতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের কাছে যৌথ চিঠি দিয়েছে একদল খাদ্য কোম্পানি ও বাণিজ্য সংগঠন। স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে আছে বিয়ন্ড মিট (Beyond Meat), কোর্ন (Quorn), দ্য ভেজিটেরিয়ান বুচার কালেকটিভ (The Vegetarian Butcher Collective), লিন্ডা ম্যাককার্টনি (Linda McCartney) ও রিডিফাইন মিট (Redefine Meat), সঙ্গে ইআইটি ফুড, ইউরোপিয়ান অ্যালায়েন্স ফর প্ল্যান্ট-বেসড ফুডস (ইএপিএফ) ও প্ল্যান্ট-বেসড ফুডস ইউরোপ।
চলতি বছরের শুরুর দিকে ইইউ কমন মার্কেট অর্গানাইজেশন (সিএমও) বিধিতে একটি সংশোধনী পাস করে। তাতে মাংসের বিকল্প পণ্যের মোড়কে 'মিট' (মাংস) এবং সংশ্লিষ্ট আরও ৩১টি শব্দ ব্যবহার নিষিদ্ধ হয়। আগস্টে বিধিটি ইইউর দাপ্তরিক নথিতে প্রকাশিত হয়, কোম্পানিগুলোকে মানতে তিন বছর সময় দেওয়া হয়। এর কয়েক দিন পরই ইউরোপিয়ান পিপলস পার্টি, প্যাট্রিয়টস ফর ইউরোপ এবং ইউরোপিয়ান কনজারভেটিভস অ্যান্ড রিফর্মিস্টস গ্রুপের সদস্যরা আরও বেশি শব্দ নিষেধের আওতায় আনতে নতুন সংশোধনী জমা দেন। পার্লামেন্টের কৃষি কমিটি এ নিয়ে কারিগরি বৈঠক করবে; ডিসেম্বরে ভোট এবং ২০২৭ সালে চূড়ান্ত পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের ভোট হওয়ার কথা।
চিঠিতে বলা হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা ইউরোপীয় কমিশনের সদ্য ঘোষিত প্রোটিন পরিকল্পনার উল্টো দিকে যায়। ওই পরিকল্পনার লক্ষ্য উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানো। কম প্রোটিনের পশুখাদ্যে ইইউ স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও তেলবীজ ও প্রোটিন ফসলের মতো উচ্চ প্রোটিনের পশুখাদ্যের ৭৪ শতাংশ তাকে আমদানি করতে হয়। গত বছরের ২৫.৮ শতাংশ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশীয় প্রোটিনের অংশ ৩৫ শতাংশে তোলার লক্ষ্য আছে, যদিও তা মূলত পশুখাদ্যকেন্দ্রিক।
কৃষকের দিক থেকে যুক্তিটা বাজারের। স্বাক্ষরকারীদের মতে, উদ্ভিজ্জ খাবার ইউরোপে উৎপাদিত ডালশস্য, দানাশস্য ও অন্যান্য প্রোটিন ফসলের জন্য বেশি দামের বাজার তৈরি করে, প্রক্রিয়াজাতকরণ দেশের ভেতরে রাখে, আর ফসলচক্রে বৈচিত্র্য আনা কৃষকদের ফসল বিক্রির পথ খুলে দেয়। রেকর্ড গরম গ্রীষ্ম আর খরার পর নিজেই নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে এমন প্রোটিন ফসল ঝুঁকি ছড়িয়ে দেওয়ার একটি উপায়, কিন্তু তার বাজার থাকতে হবে। চিঠির ভাষায়, উদ্ভিজ্জ খাবারের চাহিদা বাড়া মানে বাস্তবে ইউরোপের উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের চাহিদা বাড়া।
খরচের হিসাবও তুলে ধরেছে কোম্পানিগুলো, কারণ ইইউর ২৪টি দাপ্তরিক ভাষায় পণ্যের নাম বদলাতে হবে। বার্লিনভিত্তিক ফেডারেল অ্যাসোসিয়েশন ফর অল্টারনেটিভ প্রোটিন সোর্সেসের (বালপ্রো) চেয়ারম্যান ফাবিও জিমসেন (Fabio Ziemßen) বলেছেন, নামের এই বিধিনিষেধে শুধু জার্মানিতেই প্রায় ২৫ কোটি ইউরোর আর্থিক ক্ষতি হতে পারে, নতুন প্রস্তাবগুলো এর বাইরে। জেবিএসের মালিকানাধীন দ্য ভেজিটেরিয়ান বুচার কালেকটিভের প্রধান নির্বাহী রুটগার রোজেনডাল (Rutger Rozendaal) বলেছেন, উদ্ভিজ্জ খাবারের ক্ষেত্রে 'বার্গার' বা 'সসেজ' শব্দের মানে ক্রেতারা আগে থেকেই বোঝেন।
চিঠিতে সিএমও বিধির পূর্ণ সংশোধনে এবং ভবিষ্যতের যেকোনো প্রস্তাবে নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর চেষ্টা বাতিল করতে, অন্তত প্রভাব মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক করতে বলা হয়েছে। চাহিদা বাড়াতে ন্যায্য নামকরণ, উদ্ভিজ্জ ও প্রাণিজ প্রোটিনে সমান ভ্যাট এবং টেকসই সরকারি ক্রয়ের দাবিও আছে। ইএপিএফের মহাসচিব টমাস শোবেসবার্গার (Thomas Schobesberger) বলেন, বিশেষ করে এই গ্রীষ্মের পর কৃষকদের দরকার বৈচিত্র্যময় সুযোগ ও নতুন বাজার।
প্রতিবেদনটি গ্রিন কুইনের জন্য লিখেছেন আনায় মৃদুল।
ছবি: faeryboots / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: Green Queen


মন্তব্য
(০)