কৃষিবর্জ্য থেকে বিশেষ রাসায়নিক বানানো বেঙ্গালুরুর প্রতিষ্ঠান অল্টএম (altM) সিরিজ এ পর্বে ১ কোটি ৩ লাখ ডলার তহবিল পেয়েছে। পাইলট পর্যায় থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়াই লক্ষ্য। শিল্পে ব্যবহৃত জীবাশ্মভিত্তিক কাঁচামালের একাংশ ফসলের অবশিষ্টাংশ দিয়ে বদলাতে চায় তারা।
প্রতিষ্ঠানটির প্রক্রিয়ায় আখের ছোবড়া ও ধানের খড়ের মতো জৈব পদার্থকে তিন মূল উপাদানে ভাগ করা হয়: সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ ও লিগনিন। এতে এক কাঁচামাল থেকে একাধিক পণ্য আসে। এসব উপকরণ যায় প্রসাধনী, বস্ত্র, শিল্প রাসায়নিক, নির্মাণ, প্যাকেজিং ও ভোগ্যপণ্যে।
নতুন বিনিয়োগকারী হিসেবে যুক্ত হয়েছে রেনম্যাটার বাই জেরোধা ও মেলা ভেঞ্চার্স। পুরোনো বিনিয়োগকারী অমনিভোর, থিয়া ভেঞ্চার্স, অরিওলিস ভেঞ্চার্স ও স্পেকট্রাম ইমপ্যাক্টও আছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, অর্থ যাবে উৎপাদন সম্প্রসারণ, গবেষণা, গ্রাহক যাচাই এবং প্রকৌশল ও বাণিজ্যিক দল বড় করায়।
২০২২ সালে অল্টএম প্রতিষ্ঠা করেন টেসলার সাবেক দুই উৎপাদন কর্মকর্তা অপূর্ব গর্গ (Apoorv Garg) ও যুগল রাজ জৈন (Yugal Raj Jain)। প্রধান নির্বাহী গর্গ বলেছেন, তাঁরা কৃষিবর্জ্য থেকে শিল্পের জন্য কার্বনের নতুন উৎস গড়ছেন।
২০২৩ সালে ৩৫ লাখ ডলারের প্রাথমিক তহবিল পাওয়ার পর বেঙ্গালুরুতে গবেষণা ও পাইলট কারখানা গড়েছে তারা, গবেষণাগার বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ, চালু হয়েছে প্রদর্শনী কারখানাও। ছয়টি অণু প্রদর্শনী পর্যায়ে পৌঁছেছে, তিনটি পাইলট উৎপাদনের জন্য বাছাই হয়েছে। বাজারের দিকে এগোচ্ছে লিগনিনভিত্তিক সানস্ক্রিন সহায়ক, সেলুলোজভিত্তিক ঘনত্ব নিয়ন্ত্রক উপাদান এবং প্রসাধনীর ফেরুলিক অ্যাসিড।
কৃষির সঙ্গে যোগ কাঁচামালে। আখের ছোবড়া ও ধানের খড়ের মতো অবশিষ্টাংশ দিয়েই প্রতিষ্ঠানটি এগোতে চায়, বাণিজ্যিক পরিসরে চাহিদা তৈরি হলে এগুলোর শিল্প ব্যবহার বাড়বে। তবে অল্টএম কতটা অবশিষ্টাংশ, কার কাছ থেকে, কত দামে কিনবে, প্রতিবেদনে তা বলা হয়নি। তাই চাষির লাভ কতটা হবে, সেটি এখনও দেখার বিষয়।
ছবি: Masaki Ikeda / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: Rural Voice





মন্তব্য
(০)