যুক্তরাষ্ট্রের মৌচাষিরা ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিলের মধ্যে তাঁদের ৩৯.৯ শতাংশ মৌমাছির কলোনি হারিয়েছেন। অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে অরেগন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় ও মৌচাক পরিদর্শকদের সংগঠনের জাতীয় জরিপে এ তথ্য মিলেছে, জানিয়েছে আমেরিকান এজি নেটওয়ার্ক। ২০২৩-২৪ সালের ৫৫.১ শতাংশ আর ২০২৪-২৫ সালের ৫৫.৬ শতাংশের রেকর্ড ক্ষতির চেয়ে এটি অনেক ভালো, তবে মৌচাষিরা যে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ক্ষতি সহনীয় মনে করেন, তার চেয়ে অনেক বেশি।
আমেরিকান হানি প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি স্টিভেন কয় ৪০ শতাংশ ক্ষতিকে বলেছেন 'ধীরগতির সংকট'। শুধু শীতেই ক্ষতি হয়েছে ৩০.৩ শতাংশ। ৫০টির কম কলোনির শখের মৌচাষিরা ৫০০টির বেশি কলোনির বাণিজ্যিক চাষিদের চেয়ে বেশি হারিয়েছেন।
মৌচাষিরা আবার কলোনি গড়ে তুলছেন: মার্কিন কৃষি বিভাগের হিসাবে ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল দেশে কলোনি ছিল ২৮ লাখ ৪০ হাজার। তবে পাঁচ বা তার বেশি কলোনির খামারগুলো জানুয়ারি-মার্চে ১৬ শতাংশ আর এপ্রিল-জুনে আরও ১১ শতাংশ চাক হারিয়েছে। প্রথম প্রান্তিকে ২১.৮ শতাংশ আর দ্বিতীয় প্রান্তিকে ২৬.৩ শতাংশ কলোনিতে ভ্যারোয়া মাইট ছিল, যা সবচেয়ে বড় চাপ। তবে কলোনি ধসের লক্ষণসহ ক্ষতি আগের বছরের চেয়ে ১৮ শতাংশ কমেছে।
মাইট মারাও কঠিন হয়ে উঠেছে। ২০২৫ সালের জুনে কৃষি বিভাগের গবেষকেরা ব্যাপক কলোনি ধসের জন্য ভ্যারোয়াবাহিত ভাইরাসকে দায়ী করেন এবং প্রায় সব মাইটে বহুল ব্যবহৃত মাইটনাশক অ্যামিট্রাজ প্রতিরোধী ক্ষমতা পান। তত দিনে বাণিজ্যিক কলোনির ৬০ শতাংশের বেশি, প্রায় ১৭ লাখ, হারিয়ে গিয়েছিল, ক্ষতি আনুমানিক ৬০ কোটি ডলার। মৌমাছির পরাগায়নের ওপর নির্ভরশীল ফসলের মূল্য যুক্তরাষ্ট্রে বছরে ২,০০০ কোটি ডলারের বেশি, বিশ্বে ৩৮,৭০০ কোটি ডলার।
সহায়তা হিসেবে হানি বি হেলথ কোয়ালিশন বিনা মূল্যের অনলাইন সরঞ্জাম ভ্যারোয়া ম্যানেজমেন্ট ডিসিশন টুল হালনাগাদ করেছে। পণ্যের লেবেল ঘেঁটে এটি কয়েকটি প্রশ্নে সিদ্ধান্ত সাজায়: মাইটের সংখ্যা দমনের সীমা ছাড়িয়েছে কি না, চাকে শূককীট আছে কি না, মধুর বাক্স বসানো কি না, চাষি রাসায়নিক না প্রাকৃতিক উৎসের দমন চান, কলোনির সংখ্যা বাড়ছে না কমছে। প্রতিরোধ ঠেকাতে নিয়মিত মাইট গোনা আর পণ্য ও পদ্ধতি বদলে বদলে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে সংগঠনটি।
ছবি: Eric Erbe, Christopher Pooley (USDA ARS) / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: American Ag Network





মন্তব্য
(০)