সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে ম্যানগ্রোভ বন বাড়াতে বিশেষভাবে তৈরি ড্রোন দিয়ে বীজ ছড়ানো হচ্ছে। আবুধাবির ম্যানগ্রোভ অ্যালায়েন্স ২০২৩ সালে এভাবে বিভিন্ন এলাকায় ৬০ লাখের বেশি ম্যানগ্রোভ বীজ ছড়িয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদনের বরাতে খবরটি দিয়েছে জাগো নিউজ।
সমস্যাটি হলো, হাতে বীজ লাগাতে অনেক মানুষকে নাজুক উপকূলীয় জলাভূমিতে নামতে হয়, এতে সেখানকার বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতির ঝুঁকি থাকে, আর দূরের দুর্গম কাদাচরে পৌঁছানোও কঠিন। প্রতিটি ড্রোন প্রায় ছয় হাজার বীজ বহন করতে পারে এবং দূরবর্তী উপকূলে উড়ে গিয়ে জোয়ার-ভাটার কাদামাটিতে সেগুলো ছড়িয়ে দেয়। সংস্থাটি বৈজ্ঞানিক তথ্য, মানচিত্র ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে কোথায় বন ফেরানো হবে তা ঠিক করে।
আবুধাবিতে ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণের উদ্যোগ শুরু হয় ১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে, দেশটির প্রতিষ্ঠাতা শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের হাতে, যখন তেলনির্ভর অর্থনীতির সঙ্গে দ্রুত নগরায়ণে উপকূলের বন কমে যাচ্ছিল। আবুধাবির পরিবেশ সংস্থার সামুদ্রিক বিজ্ঞানী আমনা আলমানসুরি জানান, একসময় সেখানে ম্যানগ্রোভ ছিল প্রায় তিন হাজার হেক্টরে, এখন তা ১৭ হাজার ৬০০ হেক্টর। ১৯৮৭ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বনের আয়তন বেড়েছে ৯২ শতাংশ।
ম্যানগ্রোভ অ্যালায়েন্সের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ম্যানগ্রোভ বন প্রায় ২১ বিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড ধরে রাখে, আর সাধারণ স্থলভাগের বনের তুলনায় এরা চারগুণের বেশি কার্বন শোষণ ও সংরক্ষণ করতে পারে। শিকড় মাটি আঁকড়ে ভাঙন কমায় এবং ঢেউয়ের গতি কমিয়ে জলোচ্ছ্বাসের ধাক্কা সামলায়। আলমানসুরি ম্যানগ্রোভকে বলেছেন জলবায়ুর দিক থেকে ‘প্রকৃতির নায়ক’।
তবে ঝুঁকিও আছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ দ্রুত বাড়লে গাছ তলিয়ে যেতে পারে, আবার পানি কম হলেও বৃদ্ধি থেমে যায়; তাই আবুধাবিতে ম্যানগ্রোভকে এখনো বিপন্ন ধরা হয়। এ কারণে অ্যালায়েন্স সম্প্রতি একটি জলপ্রবাহ পুনরুদ্ধার প্রকল্প শুরু করেছে, যাতে কোন ধরনের পানিপ্রবাহে ক্ষতিগ্রস্ত বন আবার সুস্থ হয়, তা জানা যায়। জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির হিসাবে ১৯৮০ থেকে ২০০০ সালে বিশ্বে ম্যানগ্রোভ ৩৫ শতাংশ কমেছিল; ২০০০ থেকে ২০২০ সালে হারানোর হার কমেছে ৪৪ শতাংশ।
সুন্দরবনের দেশ বাংলাদেশের উপকূলেও ঘূর্ণিঝড়, ভাঙন ও লবণাক্ততা থেকে কৃষিজমি ও বসতি রক্ষায় ম্যানগ্রোভ সবুজ বেষ্টনীর কাজ করে। আগের চেয়ে নতুন হলো দূরের কাদাচরে মানুষ না পাঠিয়েই আকাশ থেকে বড় পরিসরে বীজ ছড়ানোর এই পদ্ধতি।
ছবি: Dannie.gh / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)