খড় বিছানো আর খাবার দেওয়ার মতো কাজ যন্ত্রে করলে শ্রম বাঁচে, পশুর উৎপাদনও বাড়তে পারে। কিন্তু এতে গরুর সঙ্গে মানুষের দেখা কমে যায়, আর তখন ধরতে গেলে গরু ভীতু, চাপগ্রস্ত, এমনকি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে, যাতে মানুষ ও পশু দুজনেরই আঘাতের ঝুঁকি বাড়ে। ফার্মার্স উইকলিকে এ কথা বলেছেন যুক্তরাজ্যের ক্রস কাউন্টিজ ফার্ম ভেটসের পশুচিকিৎসক মেল জুলিয়ান (Mel Julian)।
ট্রাক্টরের কেবিনে বসে পশু দেখলে গরু যন্ত্র ও তার শব্দে অভ্যস্ত হয়, কিন্তু মানুষের কণ্ঠ বা চলাফেরায় নয়। গরু শিকার-প্রাণী, তাই চাপে পড়লে পালানো, স্থির হয়ে যাওয়া বা লড়াই করাই তার স্বভাব। মানুষের সঙ্গে তার দেখা যদি শুধু টিকা বা যক্ষ্মা পরীক্ষার সময় হয়, গরু দ্রুত মানুষকে খারাপ অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে ফেলে।
মেল জুলিয়ানের কথায়, মানুষের সংস্পর্শ না থাকলে চাপ বাড়ে, উৎপাদন কমে, ভুল সময়ে হলে গর্ভধারণের হারও কমে; চাপ বাড়লে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, পশু সহজে রোগে পড়ে।
তাঁর পরামর্শ, সুই বা চিকিৎসার মতো খারাপ অভিজ্ঞতার সঙ্গে মানুষের যোগ কমিয়ে ভালো খাবার, ওজন মাপা বা এক খোঁয়াড় থেকে আরেকটিতে নেওয়ার মতো ভালো বা নিরপেক্ষ অভিজ্ঞতা বাড়াতে হবে। শুরু করা যায় প্রতিদিন কিছুক্ষণ খাবারের বেড়ার পাশ দিয়ে হেঁটে গরুর কাছে যাওয়া দিয়ে। গাভিকে শান্তভাবে সরানোর অভ্যাসও করা উচিত, যাতে বাছুর হওয়ার সময় তাকে নির্দিষ্ট গেটে নেওয়া যায়; বাছুর হলে সবচেয়ে শান্ত গাভিও তাকে আগলে রাখতে আক্রমণাত্মক হতে পারে।
প্রজনন সমন্বয় কর্মসূচিতে থাকা বকনাকে প্রথম কাজের আগে তিন-চারবার ধরার জায়গা দিয়ে হাঁটিয়ে নিলে এবং সেখানে খাবার দিলে তারা পরিবেশে অভ্যস্ত হয়। শক্ত দেয়ালের সরু পথ, ভালো দৃষ্টিসীমা আর হঠাৎ শব্দ কমানো কম চাপের ব্যবস্থা পশুর স্বাভাবিক আচরণের সঙ্গে মিলে কাজ করে, আর পরিচালনাকারীকেও নিরাপদ রাখে।
ছবি: Michael Dibb / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: Farmers Weekly





মন্তব্য
(০)