অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডব্লিউ) ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশন রাজ্যের জাতীয় উদ্যানে ডিঙ্গো নিয়ে চলা এক তদন্তে বলেছে, খামার ও সরকারি জমি দুই জায়গাতেই বুনো কুকুর নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, কারণ এরা গবাদিপশু যেমন মারে, কোয়ালার মতো দেশীয় প্রাণীও মারে। খবরটি দিয়েছে বিফ সেন্ট্রাল।
অস্ট্রেলিয়ার কৃষি ও সম্পদ অর্থনীতি ব্যুরোর (এবিএআরইএস) হিসাবে, বুনো কুকুরের কারণে দেশের কৃষি খাতের বছরে ৩০ কোটি ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত ক্ষতি হয়, মূলত পশু হারিয়ে। সংগঠনটি তদন্তে জমা দেওয়া বক্তব্যে বলেছে, ভেড়া, ছাগল ও বাছুর শিকার হওয়ায় প্রজনন হারও কমে, আর যেসব এলাকায় চাপ বেশি, সেখানে খামারিরা ছোট পশু পালন পুরোপুরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। বারবার ক্ষতবিক্ষত পশু খুঁজে পাওয়ার মানসিক চাপের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
সংগঠনের গবাদিপশু কমিটির ভাইস চেয়ার ক্রেইগ হাফ (Craig Huf) রাজ্যের উত্তর-পূর্বে ৫,০০০ হেক্টরের এক জাতীয় উদ্যানের পাশে গরু পালেন; তাঁর অভিযোগ, উদ্যানটি ডিঙ্গো ও বুনো কুকুরের আশ্রয়। তিনি বলেন, কোয়ালা মৃত্যুর একটি প্রমাণিত কারণ নিয়ে চুপ থেকে কোয়ালা সংরক্ষণের কথা বলা বিশ্বাসযোগ্য নয়। বক্তব্যে ম্যাথিউ জেন্টলসহ গবেষকদের ২০১৯ সালের একটি গবেষণা উদ্ধৃত হয়েছে: কুইন্সল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বে শিকারে মারা যাওয়া সন্দেহে ১২টি কোয়ালার দেহাবশেষের ১১টিতে বুনো কুকুরের ডিএনএ পাওয়া যায়।
সংগঠনটি "নিল টেনিউর" পদ্ধতির পক্ষে, যেখানে ব্যক্তিমালিকানার খামার, উদ্যান, রাষ্ট্রীয় বন ও পাশের রাজ্য, সব ধরনের জমিতে একসঙ্গে বুনো কুকুর নিয়ন্ত্রণ করা হয়; তাদের দাবি, দুই দশকের বেশি সময় ধরে এনএসডব্লিউর দক্ষিণ-পূর্বে এটি কাজ করেছে। তাদের বড় দুশ্চিন্তা অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি, যেখানে ডিঙ্গোকে আলাদা দেশীয় প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ চলছে। নামাজি জাতীয় উদ্যানের আশপাশের খামারিদের আশঙ্কা, এতে সময়ের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ কমবে। ভিক্টোরিয়া ২০২৪ সালে তাদের সুদূর উত্তর-পশ্চিমে বিষটোপ দেওয়া বন্ধ করেছে।
এনএসডব্লিউ ফার্মার্স চায়, সব রাজ্যে ডিঙ্গো ও বুনো কুকুরের একই শ্রেণিবিন্যাস হোক। হাফ বলেন, লক্ষ্য প্রাণীগুলোকে নির্মূল করা নয়, বরং এদের ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ করা, অস্পৃশ্য হিসেবে না দেখা। প্রতিবেদনটি করেছেন লিডিয়া বার্টন (Lydia Burton)।
ছবি: Benjamint444 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: বিফ সেন্ট্রাল





মন্তব্য
(০)