মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফল জমির প্রকৃত অবস্থার মতোই নির্ভর করতে পারে নমুনা কখন ও কত গভীর থেকে নেওয়া হয়েছে তার ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব আরকানসাসের (University of Arkansas) বিজ্ঞানীদের এক গবেষণায় এমনটি দেখা গেছে।
গবেষক দল দশটি দীর্ঘমেয়াদি মাঠ পরীক্ষার মাটি বিশ্লেষণ করেন, যেখানে ভিন্ন ভিন্ন চাষপদ্ধতি, আচ্ছাদন ফসল, পুষ্টি ব্যবস্থাপনা ও শস্যবিন্যাস ছিল। বসন্ত, গ্রীষ্ম, শরৎ ও শীত—চার মৌসুমে এবং ০–৫, ৫–১০ ও ১০–১৫ সেন্টিমিটার—তিন গভীরতায় নমুনা নেওয়া হয়।
নমুনাগুলো মূল্যায়ন করা হয় বহুল ব্যবহৃত দুটি পদ্ধতিতে: হ্যানি সয়েল হেলথ টেস্ট এবং কর্নেল ইউনিভার্সিটির কমপ্রিহেনসিভ অ্যাসেসমেন্ট অব সয়েল হেলথ। এগুলো মাটির জৈব, রাসায়নিক ও ভৌত সূচক মাপে।
গভীরতার প্রভাব ছিল জোরালো। উপরের স্তরের মাটিতে ধারাবাহিকভাবে জৈব কার্যক্রম বেশি এবং স্বাস্থ্যের স্কোর বেশি পাওয়া গেছে, গভীরে গেলে মান সাধারণত কমেছে। গবেষকেরা বলছেন, এটি প্রত্যাশিত, কারণ ফসলের অবশিষ্টাংশ, শিকড়, মাটির জীব ও জৈব পদার্থ উপরের স্তরেই বেশি থাকে।
মৌসুমও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। গ্রীষ্ম ও শীতে নেওয়া নমুনায় সূচকগুলো প্রায়ই সবচেয়ে বেশি ছিল। মাটির শ্বসন ও বিটা-গ্লুকোসিডেজ কার্যক্রমের মতো কয়েকটি জৈব সূচক বছরজুড়ে উল্লেখযোগ্যভাবে ওঠানামা করেছে। হ্যানি স্কোর নমুনা নেওয়ার সময়ের প্রতি বিশেষভাবে সংবেদনশীল ছিল।
গবেষকেরা আরও দেখেছেন, নমুনা নেওয়ার পদ্ধতির কারণে বিভিন্ন ব্যবস্থাপনার পার্থক্য ধরা পড়বে কি না, সেটিও বদলে যায়। আচ্ছাদন ফসল, সংরক্ষণমূলক চাষ বা পুষ্টি পরিকল্পনা কতটা কার্যকর মনে হবে, তা নির্ভর করতে পারে কখন ও কোথা থেকে মাটি তোলা হয়েছে তার ওপর।
তাঁদের পরামর্শ সহজ: প্রতিবছর একই গভীরতা থেকে এবং একই মৌসুমে নমুনা নিন। এই ধারাবাহিকতা না থাকলে বিভিন্ন বছর বা জমির ফল তুলনা করা কঠিন হয়ে পড়ে, আর তার ওপর ভিত্তি করে সার, শস্যপর্যায় ও সংরক্ষণ বিষয়ক সিদ্ধান্তও অনির্ভরযোগ্য হয়।
ছবি: Tim McCabe, USDA NRCS / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: Farms.com





মন্তব্য
(০)