মাটির একটি সাধারণ ছত্রাককে বীজ বা মাটিতে প্রয়োগযোগ্য পণ্যে রূপ দিয়ে ধান ও গমকে খরায় টিকিয়ে রাখা যায় কি না, তা খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের (এনএসএফ) কাছ থেকে ৬০ লাখ ডলারের অনুদান পেয়েছে চার বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষক দল।
চার বছরের প্রকল্পের নেতৃত্বে আরকানসাস স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়; সঙ্গে ইউনিভার্সিটি অব ক্যানসাস, ইউনিভার্সিটি অব নেব্রাস্কা ও ক্যানসাস স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়। আরকানসাস স্টেটের ভাগে ২২ লাখ ডলার। বহু-রাজ্যের গবেষণা অংশীদারত্বের জন্য এনএসএফের ইপিএসকর কর্মসূচির প্রকল্পটি চলবে ২০২৬ সালের আগস্ট থেকে ২০৩০ সালের জুলাই পর্যন্ত। প্রধান গবেষক আরকানসাস স্টেটের মেটাবলিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক ড. আর্হেলিয়া লরেন্স (Argelia Lorence); সহ-প্রধান বাস্তুবিদ্যার সহযোগী অধ্যাপক ড. স্কট ম্যাঙ্গান (Scott Mangan)।
গবেষণার কেন্দ্রে আরবাসকুলার মাইকোরাইজাল ছত্রাক, যা বেশির ভাগ খাদ্যশস্যের শিকড়ের সঙ্গে পারস্পরিক উপকারের সম্পর্কে থাকে। ছত্রাক শিকড়ে বাসা বেঁধে হাইফি নামের অতি সূক্ষ্ম সুতা মাটিতে ছড়িয়ে দেয়, শিকড়ের নাগাল ছাড়িয়ে অনেক দূর পর্যন্ত। এতে গাছ বড় এলাকা থেকে পানি ও পুষ্টি, বিশেষ করে ফসফরাস টানতে পারে, বিনিময়ে ছত্রাক পায় চিনি। নতুন প্রশ্ন হলো, ছত্রাকটি বীজ বা মাটিতে প্রয়োগ করলে ধান ও গম পানির চাপ মাপার মতো ভালোভাবে সামলাতে পারে কি না।
খরায় ছত্রাক ও গাছ আণবিক স্তরে কীভাবে সাড়া দেয়, গবেষণাগারে ও জিনোম পর্যায়ে তা দেখার পাশাপাশি পূর্ব আরকানসাসের আর্দ্র ধানের এলাকা থেকে ক্যানসাস ও নেব্রাস্কার শুষ্ক গম অঞ্চল পর্যন্ত মাঠ-পরীক্ষা হবে; কারণ এক জলবায়ুতে কাজে আসা ছত্রাকের ধরন অন্য জায়গায় কাজ না-ও করতে পারে। আর্থসামাজিক অংশে দেখা হবে কৃষকেরা এমন পণ্য কতটা গ্রহণ করবেন; খরচ, সংরক্ষণকাল ও প্রয়োগের সহজতা শুরু থেকেই বিবেচনায় থাকবে।
প্রকল্প শুরু হয়েছে কেবল আগস্টে; আরকানসাস স্টেটের ঘোষণায় পরিকল্পিত কাজের কথা আছে, কোনো ফলাফল নয়। তাই এটি চার বছরের প্রচেষ্টার সূচনা, ছত্রাকভিত্তিক খরা-প্রতিকার ব্যবহারের জন্য তৈরি, এমন প্রমাণ নয়।
ছবি: Msturmel (arbuscular mycorrhiza in flax root cells, under the microscope) / উইকিমিডিয়া কমন্স (public domain)
সূত্র: Global Agriculture





মন্তব্য
(০)