উত্তর আমেরিকায় বালাইনাশক ও ফসল সুরক্ষা পণ্যের প্রস্তুতকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারা এত বেশি মজুত কমাচ্ছেন যে ২০২৭ মৌসুমে পণ্যের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। সিনজেনটার উত্তর আমেরিকা ফসল সুরক্ষা বিভাগের নতুন প্রেসিডেন্ট জেফ সেসিলের (Jeff Cecil) বরাতে এ খবর দিয়েছে ক্রপলাইফ।
২০২৬ সালের ১ অক্টোবর ভার্ন হকিন্সের স্থলাভিষিক্ত হন সেসিল। ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে সিনজেনটা মিডিয়া সামিটে তিনি বলেন, "শুধু ফসল সুরক্ষার কথা ধরলে, আমরা প্রতিটি স্তরে মজুত এমন জায়গায় নামিয়ে আনছি যা সামলানো যায় না।"
এত দিন প্রস্তুতকারকেরা মজুত রাখতেন, যাতে চাহিদা বাড়লে পরিবেশক ও বিক্রেতারা তাঁদের কাছ থেকে পণ্য পান। সেসিল বলছেন, সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা হারিয়ে যাচ্ছে, কারণ প্রত্যেকে ভাবছে পরের ধাপ ঘাটতি পূরণ করবে। তাঁর ভাষায়, "সবাই মজুত কমাতে কমাতে এত নিচে নামাচ্ছে যে কেউ আর অন্যকে সামাল দিতে পারছে না।"
তিনি দীর্ঘ ও ব্যাপক ঘাটতির চেয়ে বেশি আশঙ্কা করছেন জায়গায় জায়গায় নির্দিষ্ট পণ্যের অভাব। ২০২১ সালের মজুত সংকটের কথা মনে করিয়ে দেন তিনি, যা পুরো শিল্পের জন্য কঠিন ছিল। খুচরা বিক্রেতার কাছে ঠিক সময়ে একটি পণ্য না থাকলে কৃষকের পরিকল্পিত স্প্রে কর্মসূচি বদলাতে হতে পারে, কিংবা বিকল্প খুঁজতে হয়।
এর মূলে টাকার টান। সেসিল বলেন, "আমরা সবাই এটা করছি পুঁজির সংকটের কারণে।" মুনাফা কমে যাওয়া ও ঋণের খরচের কারণে মজুত রাখা ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, শিল্পকে "কিছুটা ছাড় দিয়ে" মাঝামাঝি পথ খুঁজতে হবে। ক্রপলাইফের মতে, মৌসুম শুরুর আগে খুচরা বিক্রেতাদের কেনার পূর্বাভাস, পণ্য পৌঁছানোর সময় ও সরবরাহকারীর সঙ্গে সম্পর্ক আরও খুঁটিয়ে দেখতে হবে এবং প্রত্যাশিত চাহিদা নিয়ে পরিবেশক ও প্রস্তুতকারকের সঙ্গে আগেভাগে কথা বলতে হবে।
ছবি: Keith Evans / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: CropLife





মন্তব্য
(০)