সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১০ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৮৪%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

মাল্টা চাষের পর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাদের

বর্তমানে ৭ বিঘা জমিতে ৭০০ শতাধিক মাল্টা গাছসহ নানাবিধ ফলের বাগান রয়েছে শাহ আলমের। তার কাছ থেকে মাল্টার চারা নিয়ে দেড় শতাধিক বাগান করেছেন এলাকার যুবকেরা

বর্তমানে ৭ বিঘা জমিতে ৭০০ শতাধিক মাল্টা গাছসহ নানাবিধ ফলের বাগান রয়েছে শাহ আলমের। তার কাছ থেকে মাল্টার চারা নিয়ে দেড় শতাধিক বাগান করেছেন এলাকার যুবকেরা

ঝালকাঠিতে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মাল্টা চাষ। এখানকার মাটি মাল্টা চাষের উপযোগী হওয়ায় ফলনও হচ্ছে ভালো। কম জমিতে খুব অল্প পুঁজিতে লাভ বেশি হওয়ায় ঝালকাঠির যুবকরা ঝুঁকছেন মাল্টার বাণিজ্যিক আবাদে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে আগামীতে মাল্টা চাষের পরিধি বাড়াতে তারা কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

জেলায় সবচেয়ে বড় মাল্টা বাগান হচ্ছে নলছিটি উপজেলার সিদ্ধকাঠি ইউনিয়নের শাহ আলম হাওলাদারের শারিনা মাল্টা বাগান। তিনি প্রথমে কৌতুহলবশত নিজ বাড়ির উঠানে পরীক্ষামূলক ১০০ মাল্টা চারা রোপণ করে বেশ লাভবান হয়েছেন। অল্প জমিতে কম টাকা খরচ করে অধিক মুনাফা হওয়ায় পরবর্তীতে তিনি চার একর জমি লিজ নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে আরও একটি মাল্টার বাগান করেছেন। তার বাগান দেখে এ উপজেলার অনেকেই এখন মাল্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। রাসায়নিক মুক্ত হওয়ায় বাজারে এ ফলের বেশ চাহিদাও রয়েছে। বাগান থেকে প্রতি কেজি মাল্টা বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা দরে।

নলছিটির শারিনা মাল্টা গার্ডেনের মালিক শাহ আলম হাওলাদার জানান, টেলিভিশনে পিরোজপুর জেলার মাল্টা চাষের উপর একটি প্রতিবেদন দেখে তিনি মাল্টা চাষে আগহী হন। ২০১৬ সালে বাবার দেওয়া মাত্র ১০ শতক জমিতে ১০০টি গাছ দিয়ে মাল্টার বাগান শুরু করেন। সেই থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। মাত্র তিন বছরেই তিনি আজ সফল মাল্টা চাষী। বছরে তার বাগান থেকে প্রায় ৪ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি হয়। বর্তমানে ৭ বিঘা জমিতে ৭০০ শতাধিক মাল্টা গাছসহ নানাবিধ ফলের বাগান রয়েছে শাহ আলমের। তার কাছ থেকে মাল্টার চারা নিয়ে দেড় শতাধিক বাগান করেছেন এলাকার যুবকেরা।

শাহ আলমের বাগানে মাল্টার পাশাপাশি রঙিন আমসহ ৮০ জাতের দেশি-বিদেশি আম, সৌদি আরবের খেজুর, মিষ্টি কমলা ও দিনাজপুরের লিচু আবাদ করা হয়। তবে মাল্টার উপর তিনি বিশেষ নজর দিয়েছেন। তার বাগানে বারিমাল্টা-১ (পয়সা মাল্টা), থাইল্যান্ডের বেড়িকাটা মাল্টা ও ভারতীয় প্রলিত মাল্টা এই তিন জাতের মাল্টা চাষ করে থাকেন। চারা রোপণের দুই বছরের মধ্যে গাছের ফলন শুরু হলেও মূলত তিন বছরে একটি গাছে পূর্নাঙ্গভাবে ফল ধরা শুরু করে। তিন বছর একটি বয়স্ক গাছে প্রতি মৌসুমে ৪০০ থেকে সাড়ে ৪৫০টি মাল্টা ধরে। বর্তমানে তার বাগান পরিচর্যার জন্য ৫ জন লোক কাজ করেন। শাহ আলমের মাল্টা নিজ এলাকা ছাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী বাকেরগঞ্জও বরিশাল শহরের ফলের বাজারে বিক্রি হয়। দূর-দুরন্তের ফল ব্যবসায়ীরা তার বাগানের মাল্টা কিনে নিয়ে বিক্রি করেন। অনেকে আগাম বুকিং দিয়ে তার বাগানের মাল্টা কিনে নিয়ে যান। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা ও স্বল্পসুদে ব্যাংক ঋণ পেলে তিনি মাল্টা বাগানকে আরও বৃহত্তর পরিসরে উৎপাদন করে সারা দেশে তার নার্সারীর ছড়িয়ে দেওয়ার স্বপ্ন দেখেন। পাশাপাশি একটি গরুর খামার গড়ারও ইচ্ছাও রয়েছে তার।

শাহ আলম আরও বলেন, আমার বাগানে শুধু বিষমুক্ত মাল্টাই নয় কিছু দিন পর সৌদির খেজুরসহ বিদেশি জাতের আমের ফলন শুরু হবে। আমি চাই আমার দৃষ্টান্ত দেখে এলাকার বেকার যুবকরাও এ ধরনের বাগান তৈরি করে সাবলম্বী হোক। এ বিষয়ে যে কেউ আমার কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারে।

সরেজমিনে শাহ আলমের মাল্টা বাগানে গিয়ে দেখা যায়, শাহ আলম তার মাল্টা বাগানে পাইকারদের কাছে মাল্টা বিক্রি করতে ব্যস্ত। বিভিন্নস্থান থেকে আসা পাইকাররা তার বাগানের মাল্টা ওজন বরে মেপে প্যাকেটজাত করছেন।

এছাড়াও ঝালকাঠি সদর উপজেলার বিকনা গ্রামের খন্দকার ইকবাল মাহামুদের বাগানে গিয়ে দেখো যায় তিনি বাগানে মাল্টা গাছের পরিচর্ষা করছেন। ২০১৭ সালে তিন একর জমিতে ৮০০ মাল্টা চারা রোপণ করেন। গত বছর থেকেই প্রতিটি গাছে ফল ধরেছে। তিনি জানান গত বছরের তুলনায় এ বছর ফলন অনেক ভালো হয়েছে। তিনি এ বছর পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকার মাল্টা বিক্রির আশা করছেন। ভবিষ্যতে তিনি বাগানের পরিধি আরও বাড়াবেন বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে নলছিটি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইসরাত জাহান মিলি বলেন, “নলছিটি কৃষি বিভাগ এ উপজেলার সবচেয়ে বৃহৎ মাল্টা চাষি শাহ আলমের বাগান থেকে চারা কিনে বিনামূল্যে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করে থাকে। শাহ আলমের বাগানে উৎপাদিত মাল্টা জাতে বড় ও মিষ্টি । সে আমাদের কৃষি অফিসের সাথে সার্বক্ষণিক যোগযোগ রাখে। আমরাও সব সময় তাকে আধুনিক কৌশল প্রয়োগের পরামর্শ দিয়ে থাকি।”

ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরউপ-পরিচালক মো. ফজলুল হক বলেন, “অল্প পুঁজিতে অধিক লাভজনক হওয়ায় মাল্টা চাষে ঝুকছে এলাকার যুবসমাজ। মাল্টা চাষিদের উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি সব ধরনের সহযোগীতাও করা হচ্ছে। এ বছর জেলায় প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মাল্টার আবাদ হয়েছে।”

ঢাকা ট্রিবিউনসূত্র

এগ্রোবিজ

সম্পর্কিত খবর

এগ্রোবিজ

২০ হাজার কৃষি উদ্যোক্তা গড়বে পার্টনার প্রকল্প, ৬০ শতাংশই নারী

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের পার্টনার প্রকল্পে ৬৪ জেলার ২০৮ উপজেলায় ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ২০ হাজার কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির কাজ চলছে; এ পর্যন্ত প্রশিক্ষণ পেয়েছেন ৬,৮৭৫ জন, প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্র কিনতে মিলবে ৭০ শতাংশ ভর্তুকি।

বাসস১০ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোবিজ

বাঁশখালী-আনোয়ারা-পটিয়ায় মাঠে নামার অপেক্ষায় ৮ হাজার লবণচাষি, আমদানিতে দামের শঙ্কা

দক্ষিণ চট্টগ্রামের ১০ হাজার একর জমিতে লবণ উৎপাদনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন আট হাজার চাষি; আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী সপ্তাহেই মাঠে নামবেন তাঁরা, তবে আমদানির সিদ্ধান্তে ন্যায্যমূল্য নিয়ে দুশ্চিন্তা।

আমার দেশ১০ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোবিজ

ঠাকুরগাঁওয়ের হিমাগারে ৩২২ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ, মৌসুমের বাইরে যাবে জাতীয় গ্রিডে

ঠাকুরগাঁও সদরের লক্ষী কোল্ডস্টোরেজে নিজস্ব অর্থায়নে এক কোটি ২৫ লাখ টাকায় ৩২২ কিলোওয়াটের সৌর প্যানেল বসানো হয়েছে; এতে হিমাগারের নিজের বিদ্যুতের চাহিদা মিটবে, আর মৌসুমের বাইরে উৎপাদিত বিদ্যুৎ যাবে জাতীয় গ্রিডে।

জাগো নিউজ ২৪১০ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)