এবার হাওরের কৃষকদের গোলায় উঠেছে ৫ হাজার কোটি টাকার ধান
সুনামগঞ্জের হাওরপাড়ে কৃষকদের নিয়ে ফসল কাটার সমাপনী উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ মে) বিকেলে জেলার তাহিরপুর উপজেলার শনির হাওরপাড়ে এই উৎসব হয়। এতে কৃষকসহ নানা শ্রেণি-পেশার লোকজন অংশ নেন।
সুনামগঞ্জের হাওরপাড়ে কৃষকদের নিয়ে ফসল কাটার সমাপনী উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ মে) বিকেলে জেলার তাহিরপুর উপজেলার শনির হাওরপাড়ে এই উৎসব হয়। এতে কৃষকসহ নানা শ্রেণি-পেশার লোকজন অংশ নেন।
চলতি অর্থবছরে বোরো ধানের আশানুরূপ ফলন হয়েছে। তারপরও শেরপুরে হতাশার ছায়া কৃষকের মুখে। ধান পেকে যাওয়ায় সবাই কাটা শুরু করেছেন। এতে দেখা দিয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট। এক মণ ধানেও মিলছে না একজন শ্রমিক। ফলন ভালো হলেও মজুরির কারণে লোকসান গুনতে হতে পারে বলছেন কৃষকরা। টানা বৃষ্টি শুরু হলে ফসল ঘরে তুলতে ভোগান্তিত
ব্লাস্ট রোগ, স্থানীয়ভাবে যাকে বলা হয় 'কারেন্ট পোকা'। আর এই পোকার আক্রমণ থেকে বোরো ক্ষেতের ফসল রক্ষা করতে পারছেন না গাইবান্ধার কৃষকরা। চোখের সামনে কষ্টের ফসল ধানের শীষ চিটা হয়ে মরে যাচ্ছে। ফসল বাঁচাতে স্থানীয় দোকান থেকে সংগ্রহ করা ওষুধ-কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোনো সুফল মিলছে না।
'বাংলাদেশের অনেক এলাকার ভূগর্ভস্থ পানি আর্সেনিক দ্বারা দূষিত। অবিরাম জলাবদ্ধতায় ধান চাষ করলে চালের মধ্যে এই বিষাক্ত উপাদানের মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যায়। তবে থ্রিএফফোরডি (৩ দিন জলাবদ্ধতা ও ৪ দিন নিষ্কাশন) পদ্ধতি প্রয়োগে চালের মধ্যে অজৈব আর্সেনিকের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। গবেষণায় দেখা গেছ
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ইউসুফপুর গ্রাম। গ্রামের মাঠ থেকে কান এলো মেশিনের গর গর শব্দ। একটু এগিয়ে যেতেই দেখা গেলো মেশিন দিয়ে কাটা হচ্ছে। ধান কাটা, মাড়াই এমনকি ধান বস্তায় ভরা হচ্ছে একই মেশিনে।
হাতে কাস্তে, মাথায় মাথাল, পরনে লুঙ্গি ও কাঁধে গামছা। ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী এমন অসংখ্য মানুষ ছোট ছোট দলবেঁধে বসে আছেন। পেশায় তারা কৃষি শ্রমিক। তাদের এ অপেক্ষা কৃষকের জন্য। কৃষক এলে দরদাম ঠিক হবে, তারপর ধান কাটতে যাবেন তারা।
বোরো ফসলের অফুরন্ত ভান্ডার হিসেবে পরিচিত কিশোরগঞ্জ জেলা। একসময় এই জেলার হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার মৌসুমে স্থানীয় ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লাখো কৃষি শ্রমিকের আগমন ঘটতো। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধান কাটার মৌসুমেও শ্রমিক সংকট ক্রমেই প্রকট হচ্ছে।
ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের নিবন্ধন পেয়েছে কিশোরগঞ্জের সুস্বাদু রাতাবোরো ধান ও অষ্টগ্রামের পনির।
যশোরে কালবৈশাখী ও আধাঘণ্টার শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধানের ক্ষেত লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। সোমবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলের এই ঝড়-বৃষ্টিতে মাথায় হাত পড়েছে কৃষকদের। মাঠে কেটে রাখা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। যে ক্ষেতের ধান কাটা হয়নি তার বেশিরভাগই ঝরে পড়েছে শিলার আঘাতে।
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে হাতির তাণ্ডব বেড়েছে। প্রায় এক মাস ধরে উপজেলার পোড়াগাঁও, নয়াবিল ও রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় বোরো ধানক্ষেতে তাণ্ডব চালিয়ে আসছে বন্যহাতির দল। বন্যহাতির ভয়ে ফসল বাঁচাতে আধাপাকা ধান কাটতে শুরু করেছেন কৃষকেরা।
সারাদেশ থেকে ধান-চাল কেনার টার্গেট পূরণ হলে বাইরের দেশ থেকে খাদ্য আমদানি করা লাগবে না বলে উল্লেখ করেছেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাসুদুল হাসান।
কিশোরগঞ্জে হাওরের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সোনালি ধানের হাতছানি। কাঁচা-পাকা সোনা রঙের মন জুড়ানো ধানের শিষ হাওয়ায় দোল খাচ্ছে। হাওরের মাঠে এখন চলছে এসব ধান কাটার ধুম। কাকডাকা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন হাওরের কৃষাণ-কৃষাণীরা। তবে ধানের দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা।
সুনামগঞ্জের হাওরগুলোতে কৃষকদের ক্ষতি করে রাতের আঁধারে অবাধে মাটি কেটে বিক্রির ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরে চললেও ভয়ে কিছু বলতে পারছেন না প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা। মাটি বিক্রির চক্রটি প্রভাবশালী হওয়ায় তারা থেকে যাচ্ছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। কেউ মুখ খুললেই হতে হয় হয়রানির শিকার।