লিন্ড্ট-সমর্থিত সুইস খাদ্যপ্রযুক্তি স্টার্টআপ Food Brewer (ফুড ব্রুয়ার) হলুদ মটর শিল্পের উপজাত দিয়ে কোকোবিহীন চকলেট বার বাজারে এনেছে। 'ইয়োডেল বাইটস' নামের বারটি সুইজারল্যান্ডের সব ডাইনিং কারযুক্ত এসবিবি ট্রেনে বিক্রি হচ্ছে, জানিয়েছে গ্রিন কুইন।
প্রতিষ্ঠানটি প্রথম পরিচিতি পায় উদ্ভিদকোষ থেকে কোকো উৎপাদনের জন্য। সেই প্রযুক্তির অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্যেই তারা অন্য ফসল দিয়ে চকলেট ও কফির স্বাদ তৈরির দিকে গেছে; শিম জাতীয় ফসল ও কোকো বাটারের বিকল্প দিয়ে চকলেটের মূল উপাদানগুলো প্রতিস্থাপন করে।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, হলুদ মটর বেছে নেওয়ার কারণ হলো এটি সারা বছর ও নানা অঞ্চলে জন্মায়, মাটির স্বাস্থ্য ভালো রাখে, দক্ষভাবে কাটা যায়, সরবরাহ শৃঙ্খল ছোট ও স্থিতিশীল, আর জলবায়ুর ওপর নির্ভরতা কম। মটরের সাধারণত উপেক্ষিত অংশটি গাঁজন, ভাজন ও বিশেষ প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বাদামি, ভাজা ও চকলেটের মতো স্বাদে রূপ নেয়; চর্বি ও চিনির সঙ্গে মিশিয়ে তা চকলেটের মতো মসৃণ তরলে পরিণত হয়।
ইয়োডেল বাইটসে মটরের উপাদানের সঙ্গে আছে ক্যারোব, যা বহু দিন ধরে চকলেটের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত একটি শিম জাতীয় ফল; আরও আছে পাম ও শিয়া চর্বি, চিনি, গুঁড়া দুধ ও হ্যাজেলনাট। কোম্পানির দাবি, সাধারণ মিল্ক চকলেটের চেয়ে এতে চিনি ৩০ শতাংশ কম।
জলবায়ু পরিবর্তনে কোকোর সরবরাহ ধাক্কা খাওয়ায় বিকল্প কোকোতে বিনিয়োগ বাড়ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে কোকোর মজুত ১০ বছরের সর্বনিম্নে নামে, দাম ওঠে রেকর্ডে, আর চরম আবহাওয়া প্রধান উৎপাদক দেশগুলোর ফসল নষ্ট করছে।
কোষভিত্তিক কোকোর কাজও চলছে: কোকো বীজ থেকে নেওয়া কোষ পুষ্টি জেলে বাড়িয়ে ফারমেন্টারে রাখা হয়, পর্যাপ্ত জৈববস্তু হলে তা সংগ্রহ করে শুকানো ও ভাজা হয়। গত বছর প্রক্রিয়াটি ৬ হাজার লিটারে উন্নীত হয়েছে এবং লিন্ড্ট অ্যান্ড স্প্রুংলিসহ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৫৬ লাখ ডলার তোলা হয়েছে। এখন যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদনের চেষ্টা চলছে। বার্ন ফলিত বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্ধ স্বাদ পরীক্ষায় ভোক্তারা এর কোকোবিহীন চকলেট ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন।
প্রতিবেদনটি গ্রিন কুইনের জন্য লিখেছেন অনয় মৃদুল।
ছবি: Sanjay Acharya / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Green Queen





মন্তব্য
(০)