ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও ব্রাজিলের কৃষকেরা ২০২৭ মৌসুমের সার কিনছেন স্বাভাবিকের চেয়ে দেরিতে; ফলে উত্তর গোলার্ধে সার দেওয়ার মৌসুমের আগে বিপুল পরিমাণ কেনা এখনো বাকি। নরওয়ের সার কোম্পানি ইয়ারা ইন্টারন্যাশনালের (Yara International) প্রধান নির্বাহী স্ভেইন টোরে হোলসেথার (Svein Tore Holsether) তৃতীয় প্রান্তিকের আয় নিয়ে বিশ্লেষকদের সঙ্গে আলোচনায় এ কথা বলেছেন, জানিয়েছে এগনেভিগেটর।
হোলসেথার বলেন, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলে ২০২৭ মৌসুমের কেনাকাটা পিছিয়ে আছে, উত্তর গোলার্ধের মৌসুম যত কাছে আসছে ততই বাকি পরিমাণ বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ বিঘ্ন, মৌসুমের শুরুতে ফসলের কম দাম আর চাষির সামর্থ্য নিয়ে অনিশ্চয়তায় সারের বাজারের জন্য বছরটা ছিল টালমাটাল।
তবে চাষিরা সার কম দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, এমন লক্ষণ কম বলে জানিয়েছে কোম্পানি। হোলসেথারের ভাষায়, ২০২৬ সালের শুরুর তুলনায় নাইট্রোজেন এখন সাশ্রয়ী, ফসলের দামও ছয় মাস আগের চেয়ে ভালো, তাই আরও কাটছাঁট নয়, চাহিদা বাড়াই স্বাভাবিক। প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা মাগনুস ক্রোগ আনকারস্ট্রান্ড বলেন, কেনাকাটা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক পিছিয়ে, তবে চাহিদা হঠাৎ অনেক কমে যাবে এমন ভাবার কারণ নেই।
প্রান্তিকে ইউরোপে ইয়ারার নাইট্রোজেন সরবরাহ আগের বছরের চেয়ে ৪ শতাংশ বেড়েছে, যদিও পুরো বাজার আনুমানিক ৫-১০ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। জোগানও টানটান: আসন্ন মৌসুমে ইউরোপের আমদানি প্রায় ৩০ শতাংশ কম, ব্রাজিলে ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়াম সালফেট আমদানি কমেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে রপ্তানি কমেছে, আর গ্যাসের উচ্চ দামে ইউরোপজুড়ে অ্যামোনিয়া উৎপাদন কাটছাঁট হয়েছে। জোগানের চাপ থাকলে দেরিতে কেনার প্রভাব আরও বড় হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কোম্পানি।
বিশেষ খাত বাদে তৃতীয় প্রান্তিকে ইয়ারার ইবিআইটিডিএ (করপূর্ব আয়) নেমেছে ৬৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারে, আগের বছর ছিল ৮০ কোটি ৪০ লাখ ডলার। ইউরোপে গ্যাসের বাড়তি খরচ, কম বিক্রি আর কারখানার কারিগরি সমস্যাকে এর কারণ বলেছে কোম্পানি। তারা উন্নতির লক্ষ্য বহাল রেখেছে এবং বলেছে, গাল্ফ কোস্ট অ্যামোনিয়া কেনার পরিকল্পনা জ্বালানি ঝুঁকি ছড়িয়ে দেবে।
চাষিদের জন্য বার্তা হলো, জোগান না বাড়লে এই শীতে নাইট্রোজেন কেনায় শেষ মুহূর্তের ভিড় দেখা দিতে পারে।
ছবি: Michael Trolove / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: AgNavigator





মন্তব্য
(০)