খাদ্যশস্যের জমিতে নয়, চরাঞ্চল, লবণাক্ত ও খরাপ্রবণ এলাকা এবং কম ফসলি জমিতে তুলা চাষ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিশ্ব তুলা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর খামারবাড়ির তুলা ভবনে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
দেশের তুলার মান ভালো উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, উৎপাদন বাড়াতে নির্দিষ্ট এলাকা চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি, বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা দরকার। ২০৩০ সালের মধ্যে তুলার উৎপাদন ৫ লাখ বেলে তোলার লক্ষ্য পূরণে প্রতিবছর কত জমিতে আবাদ বাড়বে, কোন এলাকায় নতুন চাষ হবে আর কতজন কৃষক যুক্ত হবেন, তা সুনির্দিষ্ট করে একটি মহাপরিকল্পনা করতে নির্দেশ দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, যেসব এলাকায় প্রচলিত খাদ্যশস্য কম হয়, সেখানে তুলাসহ বিকল্প ফসলের সুযোগ আছে, আর তুলার সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে হলুদসহ লাভজনক ফসলের সম্ভাবনাও কাজে লাগাতে হবে। সীমিত কৃষিজমির সর্বোচ্চ ব্যবহার, ফসলের বহুমুখীকরণ আর রপ্তানি বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি।
রঙিন তুলার সম্ভাবনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিকভাবে রঙিন তুলা উৎপাদন করা গেলে কাপড়ে রাসায়নিক রঙের ব্যবহার কমবে, আর বিশ্ববাজারে রাসায়নিকমুক্ত পণ্যের চাহিদা আছে। এ তুলা এখন পরীক্ষামূলক পর্যায়ে নাকি বাণিজ্যিকভাবে হচ্ছে, তা যাচাই করে উদ্যোগ নেওয়া হবে; তিনি নিজে সংশ্লিষ্ট এলাকা দেখতে যাওয়ার আগ্রহ জানান।
কৃষি গবেষণা ও উদ্ভাবনের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, কম জমিতে বেশি উৎপাদন আর কম খরচে ভালো মানের পণ্য দিয়ে কৃষিকে প্রতিযোগিতামূলক করতে হবে। তুলা সম্প্রসারণে অর্থায়ন বড় বাধা হবে না, তবে বাস্তবায়নে দ্রুততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল আমিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সচিব মো. সলিম খান, আর সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির মহাসচিব এএসএম গোলাম হাফিজ।
ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: কৃষি সংবাদ





মন্তব্য
(০)