সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮+০.০%আদা - আমদানিকৃত১৬৭+০.০%আদা - দেশী১৫৪+০.০%আমন চাল - মাঝারি৫৬+০.০%আমন চাল - মোটা৪৮+০.০%আমন চাল - সরু৭২+০.০%আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২+০.০%কাঁচা মরিচ২১৮+০.০%খামারের মুরগী১৬২+০.০%খাসী৯০০+০.০%চিনি (দেশী)১৩২+০.০%ছোলা - গোটা৮৫+০.০%ডিম ফার্ম - লাল৪৭+০.০%পেঁয়াজ - দেশী৬০+০.০%বোরো চাল - মাঝারি৫৫+০.০%বোরো চাল - মোটা৪৭+০.০%বোরো চাল - সরু৬৬+০.০%মাংসঃ– গরু৭২৯+০.০%মুগ ডাল১২২+০.০%রসুন - আমদানিকৃত১৯২+০.০%রসুন - দেশী১৭৩+০.০%সয়াবিন তেল১৬৩+০.০%
হালনাগাদ ৭ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা৩০°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬৪%বাতাস ৪ কিমি/ঘ

মতামত: ডিসেম্বরে শেষ গঙ্গা চুক্তি, নবায়ন নয়, দরকার ন্যায্য ও বিজ্ঞানভিত্তিক নতুন চুক্তি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের সহযোগী অধ্যাপক খায়ের মাহমুদ লিখেছেন, ১৯৯৬ সালের চুক্তিতে শুষ্ক মৌসুমে ন্যূনতম প্রবাহের নিশ্চয়তা, পরিবেশগত প্রবাহ ও বাধ্যতামূলক বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেই; মেয়াদ শেষে অন্তর্বর্তী শূন্যতার ঝুঁকিও আছে।

মতামত: ডিসেম্বরে শেষ গঙ্গা চুক্তি, নবায়ন নয়, দরকার ন্যায্য ও বিজ্ঞানভিত্তিক নতুন চুক্তি
মতামত

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর সই হওয়া গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে এ বছরের ডিসেম্বরে। বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত এক কলামে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লেস্টারের পিএইচডি গবেষক খায়ের মাহমুদ যুক্তি দিয়েছেন, পুরোনো চুক্তি শুধু নবায়ন না করে আরও ন্যায্য, বিজ্ঞানসম্মত ও কার্যকর একটি চুক্তির জন্য বাংলাদেশকে কাজ করতে হবে। মতামতগুলো লেখকের নিজস্ব।

চুক্তিটি ফারাক্কা পয়েন্টে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুমের পানি ১০ দিন করে ভাগ করে। প্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম হলে দুই দেশ সমান পায়; ৭০ থেকে ৭৫ হাজারের মধ্যে হলে বাংলাদেশ পায় ৩৫ হাজার; ৭৫ হাজার বা বেশি হলে ভারত পায় ৪০ হাজার, বাকিটা বাংলাদেশ। ১ মার্চ থেকে ১০ মে পর্যন্ত তিনটি নির্দিষ্ট ১০ দিনে পালাক্রমে প্রত্যেক দেশ ৩৫ হাজার কিউসেক পায়। চুক্তির ১২ নম্বর অনুচ্ছেদে নবায়ন দুই দেশের সম্মতিতে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে নয়।

লেখক চুক্তির মূল্য স্বীকার করেও কয়েকটি দুর্বলতা দেখিয়েছেন। পুরো শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের জন্য অবিচ্ছিন্ন ন্যূনতম প্রবাহের নিশ্চয়তা নেই; ফারাক্কায় প্রবাহ ৫০ হাজার কিউসেকের নিচে নামলে শুধু জরুরি পরামর্শের কথা বলা আছে। বণ্টনসূচি দাঁড়িয়ে আছে ১৯৪৯ থেকে ১৯৮৮ সালের গড় প্রবাহের ওপর, অথচ এর মধ্যে উজানের ব্যবহার, সেচের চাহিদা আর জলবায়ু বদলে গেছে। তাঁর মতে নতুন চুক্তির ভিত্তি হওয়া উচিত পুরো অববাহিকার প্রবাহ, উজানের প্রত্যাহার আর বাঁধ-ব্যারাজের সম্মিলিত প্রভাব।

কৃষি ও পরিবেশের দিক থেকে লেখক বিশেষ জোর দিয়েছেন: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পর্যাপ্ত মিঠাপানি না এলে লবণাক্ততা বাড়ে, কৃষি ও খাওয়ার পানির উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সুন্দরবন চাপে পড়ে। অথচ বর্তমান চুক্তিতে পরিবেশগত প্রবাহ, সুন্দরবনের মিঠাপানি, গড়াই নদীর পুনরুজ্জীবন, লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ বা মৎস্যসম্পদ রক্ষার বাধ্যতামূলক কোনো মানদণ্ড নেই। শুষ্ক মৌসুমে প্রবাহ বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের কথা ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে থাকলেও তিন দশকে তা অমীমাংসিতই রয়ে গেছে।

তিনি স্বচ্ছতার জন্য যৌথ রিয়েল-টাইম তথ্যভান্ডার, স্বাধীন কারিগরি যাচাই ও নিয়মিত প্রকাশ্য প্রতিবেদন, আর বিরোধ মেটাতে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও প্রয়োজনে স্বাধীন বিশেষজ্ঞ বা সালিশি ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর সতর্কতা, ১১ নম্বর অনুচ্ছেদে মতবিরোধের সময় বাংলাদেশের হিস্যার অন্তত ৯০ শতাংশ ছাড়ার যে সুরক্ষা আছে, তা শুধু চুক্তির মেয়াদকালের জন্য; ডিসেম্বরের মধ্যে সমঝোতা না হলে আইনগত ও পরিচালনাগত শূন্যতা তৈরি হতে পারে।

লেখকের আহ্বান: বাংলাদেশ গঙ্গার পানিতে অনুগ্রহ চায় না, চায় ভাটির অংশীদার হিসেবে ন্যায্য, ন্যূনতম ও কার্যকরভাবে সুরক্ষিত হিস্যা, যেখানে নদীর জীবন আর ভাটির মানুষের অধিকারও স্বীকৃতি পাবে।

ছবি: Debmalyap / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

বাংলা ট্রিবিউনসূত্র

মতামত

সম্পর্কিত খবর

মতামত

মার্সেল ব্রুইন্স: ইউরোপের বীজ খাতে প্রজননবিদের অধিকার ও পেটেন্ট দুটোই দরকার

সিড ওয়ার্ল্ড ইউরোপের সম্পাদকীয় পরিচালক মার্সেল ব্রুইন্স তাঁর কলামে লিখেছেন, জাত সুরক্ষা ও পেটেন্ট আলাদা জিনিস রক্ষা করে, ইউরোপের জাতে পেটেন্টের দাপটের প্রমাণ তথ্যে নেই, আর আসল প্রশ্ন হলো ব্যবহারের সুযোগ।

Seed World Europe৭ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মতামত

তিমির ভাষা, সমুদ্রের কোলাহল: বিজ্ঞানবক্তা আসিফের কলাম

আজকের পত্রিকায় বিজ্ঞানবক্তা আসিফ লিখেছেন, প্রজেক্ট সেটির গবেষণায় স্পার্ম তিমির শব্দসংকেতে ব্যাকরণের মতো বিন্যাস ধরা পড়ছে, অথচ জাহাজ, সোনার ও বিস্ফোরণের শব্দে তিমিদের সমুদ্র ক্রমেই অসহনীয় হয়ে উঠছে।

আজকের পত্রিকা৭ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মতামত

দহ হারালে দেশি মাছ ফিরবে কোথায়: করতোয়ার গোসাঁইয়ের দহ রক্ষার প্রস্তাব

সার্ক কৃষি কেন্দ্রের মৎস্য বিশেষজ্ঞ ড. মো. শরীফুল ইসলাম প্রথম আলোয় লিখেছেন, শেরপুরের গোসাঁইয়ের দহের অবশিষ্ট অংশ রক্ষা ও নদীর সংযোগ ফেরানোই প্রথম কাজ; পোনা ছাড়ার আগে জরিপ দরকার।

প্রথম আলো৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)