রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় তিস্তা বেষ্টিত ১৮০টি চরের কৃষক এখন পাকা আমন ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায়। নদীর পানি কখনো বাড়ছে, কখনো কমছে, আর ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগে পানি বাড়লে নিচু জমির পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। বাসসের রংপুর সংবাদদাতা এ খবর দিয়েছেন।
রংপুর আঞ্চলিক কৃষি অফিসের তথ্যে, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারীর এই ১৮০টি চরে এবার ২২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে, ফলনও ভালো। আঞ্চলিক কৃষি কর্মকর্তা আবু বক্কর সাইফুল ইসলাম জানান, সাধারণত মধ্য অক্টোবরের পর তিস্তার পানি ওঠানামা করে, আর গত বছরগুলোতে এ সময় পাকা ধান তলিয়ে গিয়েছিল। কৃষি বিভাগ চরে সতর্কতা জারি করেছে এবং আগাম জাতের পাকা ধান দ্রুত কেটে ফেলার পরামর্শ দিয়েছে।
চরের অনেক জমি নদীর কাছাকাছি ও নিচু, তাই হঠাৎ পানি বাড়লে দ্রুত প্লাবিত হয়। হরিশ্বর গ্রামের কৃষক জাহেদুল ইসলাম বলেন, যখন পানির দরকার তখন পাওয়া যায় না, আর ধান তোলার সময় এলে পানি বাড়ে; কয়েক দিন পর ধান কাটার কথা, তার আগ পর্যন্ত আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে। গদাই গ্রামের সাইফুল ইসলাম বলেন, সারা বছরের পরিশ্রমের ফসল এখন শুধু ঘরে তোলার অপেক্ষায়।
ভোটমারী চরের কৃষক সাহানুর রহমান জানান, গত বছর এই সময়ে তিস্তার পানিতে তাঁর সাড়ে তিন বিঘার ধান নষ্ট হয়েছিল; এবার তিনি ৭ বিঘায় আমন লাগিয়েছেন।
কৃষকদের দাবি, আমন ঘরে তোলা পর্যন্ত তিস্তার পানি নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হোক এবং পানি বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিলে চরের কৃষকদের দ্রুত সতর্ক করা হোক। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পাকা ধান দ্রুত কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, আর পানি বাড়া বা বন্যার আশঙ্কা দেখা দিলে কৃষকদের আগেভাগে জানানো হবে।
ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: বাসস





মন্তব্য
(০)