যশোরে এবার প্রায় ২২০ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়েছে, আর চাষিরা প্রায় ২২ কোটি টাকার বেচাকেনার আশা করছেন। কৃষি বিভাগের লক্ষ্য ২২ হাজার টন উৎপাদন। দিনাজপুর টিভি এ খবর দিয়েছে।
জেলার উঁচু, তুলনামূলক কম উর্বর জমিতে আখের ফলন অন্য ফসলের চেয়ে ভালো হয়। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবার আখ বেশি মিষ্টি ও লম্বা হয়েছে, চাহিদাও বেশি, ফলে গতবারের চেয়ে প্রতি পিসে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি পাচ্ছেন চাষিরা। বাঘারপাড়ার চাষি মশিয়ার রহমান, যিনি ১২ বছর বয়স থেকে আখের মাঠে কাজ করছেন, এবার ৮ কাঠায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা খরচ করে দেড় লাখ টাকার আখ বিক্রির আশা করছেন।
তবে লাভের উল্টো পিঠে সংকটও আছে। রাসায়নিক সারের তীব্র সংকট আর দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ এতটা বেড়েছে যে বেশি দামে বিক্রি করেও অনেকে প্রত্যাশিত লাভ পাচ্ছেন না।
শহরের খালধার মোড়ের আখের হাটে প্রতিদিন প্রায় ১৫ হাজার পিস আখ ওঠে, যার দাম প্রায় ৬ লাখ টাকা। এখন মানভেদে ১০০ পিস আখ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায়। আড়তদারেরা জানান, গতবার ১০০ পিস কিনতেন ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়, এবার লাগছে ১,২০০ থেকে ১,৫০০ টাকা; গাড়িভাড়াসহ খরচ মিলিয়ে পাইকারিতে প্রতি পিসে ২ থেকে ৩ টাকা বেশি নিতে হচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ আখ যাচ্ছে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আখের সঙ্গে সাথি ফসল চাষের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, আর একই জমিতে প্রতিবছর আখ না লাগিয়ে এক-দুই বছর পরপর শস্য পর্যায় মেনে চাষের পরামর্শ দিচ্ছে।
ছবি: Biswarup Ganguly / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: দিনাজপুর টিভি





মন্তব্য
(০)